ঈদের লম্বা ছুটি উপভোগের প্রস্তুতি নগরবাসীর

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর পুরো আমেজের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি দেশবাসী। এবার পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকায় রমজানের শুরুতেই ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী থেকে লাখ লাখ মানুষ নাড়ির টানে ছুটে যাবেন দেশের নানা গন্তব্যে। ইতোমধ্যে তারা কেনাকাটাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছেন। এবার ঈদে প্রায় নয় দিনের ছুটি পাবেন কর্মজীবী মানুষেরা। এজন্য তাদের মধ্যে এই ঈদ নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
হিসাব অনুযায়ী, ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শেষ অফিস। পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ১ মে রোববার মে দিবসের ছুটি। ২ থেকে ৪ মে ঈদের ছুটি। মাঝে একদিন বৃহস্পতিবার (৫ মে) কর্মদিবস। এরপর আবার সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার। মাঝে একদিন ছুটি ঘোষণা করলে টানা নয় দিনের ছুটির ফাঁদে পড়বে দেশ।
মাঝের একদিন ছুটি ঘোষণা না করলেও এদিন অফিস খুব একটা স্বাভাবিক হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই এক দিনের ছুটির জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে।
ছুটি নেওয়া পিআইবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘লম্বা ছুটি পাচ্ছি, একদিন ছুটি নিলে নয় দিনের ছুটি। তাই আমার ছুটি পাওনা আছে। আগেই আবেদন দিয়ে ঐচ্ছিক ছুটির অনুমোদন নিয়েছি।’
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা ছুটির আবেদন দিয়েছেন। একই মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় শ্রেণির একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী বলেন, ‘একদিন ছুটি নিলে ছুটিটা আরও লম্বা হচ্ছে। সরকার চাইলে ওই দিনও ছুটি দিয়ে দিলেই পারে। কেননা একদিনের অফিস থাকলেও সেভাবে কেউ আসতে চাইবে না। তবুও আমরা অনেকেই আবেদন করছি, সামনে আরেও আবেদন করবে।’
শ্যামলী ও হানিফ পরিবহনের গাবতলী কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা আগাম টিকিট বিক্রির প্রস্তুতি রেখেছে। তারিখ ঘোষণা হলেই আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হবে।
মালিবাগ সোহাগ কাউন্টারের কর্মী বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আগামী ২০ তারিখ বা এরপর অগ্রিম টিকেট বিক্রি করবো, সুনির্দিষ্ট তারিখ আমরা আগেই জানিয়ে দেবো।’
গ্রিনলাইন পরিবহন ইতোমধ্যেই ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ম্যানেজার বলেন, ১ রমজান থেকেই নিয়মিত যারা যাতায়াত করেন তারা ভিড় করেছেন অগ্রিম টিকেটের জন্য। অবশেষ আমরা গত শুক্রবার (৮ এপ্রিল) থেকে টিকিট বিক্রি শুরু করি। বিক্রি চলছে। আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকেট থাকা যাত্রীরা নিতে পারবেন।
ঈদের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কমলাপুর রেলস্টেশনেও। রোববার (১০ এপ্রিল) সরেজমিনে কমলাপুরে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই আগামী সপ্তাহে বাড়ি যাওয়ার টিকেট কেটে নিচ্ছেন। আবার ঈদের অগ্রিম টিকেটের খোঁজ নিতেও এসেছেন অনেকেই। কেউ এসেছেন অনলাইনে টিকেট কেটে সেগুলো প্রিন্ট করাতে। সম্প্রতি ট্রেনের টিকেট বিক্রির স্বত্বাধিকার পরিবর্তন হওয়ায় এবার টিকেট পেতে ভোগান্তির শঙ্কা কাজ করছে অনেক যাত্রীর মধ্যে। রেল স্টেশনে আসা কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা এই শঙ্কার কথা জানান।
রোববার (১০ এপ্রিল) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতরে নদীপথে যাত্রায় লঞ্চের টিকিট পেতে বাধ্যতামূলকভাবে যাত্রীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি জমা দিতে হবে। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই তাদের জন্ম নিবন্ধন দিতে হবে।
নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রায় বেশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। আর এই দুর্ঘটনার পর হতাহতদের চিহ্নিত করা দুস্কর হয়ে যায়। সে কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এবারের ঈদযাত্রায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে তার সবটুকু দিয়ে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করব।
আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে গার্মেন্টসে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে জানান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে, অনেকেই ১০ রমজানের পর ভিড় এড়াতে আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বেসরকারি একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করা সোহেল খান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এবারের ঈদে মানুষ প্রচুর বাড়ি যাবে। গত দুই বছর সরকারের বিধিনিষেধ, নানা শঙ্কা নিয়ে বাড়ি গেলেও সবাই যায়নি। এবার সেই চাপটা ফেরত আসবে। নববর্ষের ছুটিতেই পরিবার পাঠিয়ে দেবো গ্রামের বাড়ি।’
গণপরিবহনের পাশাপাশি প্রচুর চাপ থাকে প্রাইভেটকার ভাড়া করে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য। মোহাম্মদপুরে রেন্ট এ কারের ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমার সাতটি গাড়ির মধ্যে সবগুলো ২৯, ৩০ এপ্রিল এবং ১ মে ভাড়া বুকিং হয়েছে। তবে ১ মে একটা বড় হায়েস গাড়ি এখনো ফাঁকা আছে।’
ইব্রাহিম বলেন, ‘সবাই ঈদের হিসাবটা আগেই করে। সে অনুযায়ী প্ল্যান করেন, ভাড়া নেন। আমার ফেরত ট্রিপও ভাড়া হচ্ছে এখনই। ইতোমধ্যেই কেউ কেউ ৬ এবং ৭ মে ফেরত আসতে ভাড়া অগ্রিম দিয়েছেন।’
মাইশা রেন্ট এ কার নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সোরহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার লাইনে যে গাড়িগুলো চলে তার অর্ধেকের বেশি ভাড়ার সিরিয়াল দেওয়া আছে। পরিচিত যারা সবসময় এদিক সেদিক যায় বলে রেখেছে, এডভান্স করে রেখেছে।’
এসএম