ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ‍উজিরপুরে সুরভী পরিবহনের চাপায় নিহত ৩ উজিরপুরে আলোচিত তুবার বাবাকে সংশোধনের জন্য পাঠানো হলো রিহ্যাবে ভোল‍ায় চরে প্রসববেদনা মানেই আতঙ্ক, খেয়া না পেলে অনিশ্চিত জীবন বরিশালে ৮ কলেজে একাদশে এবারও মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী দাবি আদায়ে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের শ্রমিকদের অনশন বরিশালে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদ্‌যাপন বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা ও কর্মমান আরও উন্নত করা প্রয়োজন: বিভাগীয় কমিশনার সংবিধানে ফিরছে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’, জানুয়ারিতে সংশোধন বিল অসুস্থ সাংবাদিক বেলায়েত বাবলুকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ  ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে তিন যুবকের লাথি, গর্ভপাতের পর নবজাতকের মৃত্যু
  • নামের মিল থাকায় কারাগারে নিরাপরাধ জেলে

    নামের মিল থাকায় কারাগারে নিরাপরাধ জেলে
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরগুনায় নামের সাথে মিল থাকায় মো. মনির মীর (৪৬) ডাকাতি মামলার আসামি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবী, ওই মামলায় বিনা অপরাধে ছয় মাস হাজতবাসে ছিলেন মনির মীর এবং গত ছয় বছর ধরে ডাকাতির মামলায় আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন তিনি। 

    ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া এলাকায়। মনির মীর একই এলাকার  এচাহাক মীরের ছেলে। তিনি কৃষি ও কাঠ মিস্ত্রি হিসেবে জিবিকা নির্বাহ করেন। 

    মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই ঢাকার কলাবাগান থানার গ্রীন রোডের একটি ফাস্টফুডের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনা কলাবাগান থানায় একটি ডাকাতি মামলা হয়। মামলার বাদী মেহেদী হাসান। মামলা নং- জিআর-৮৭/১৬। আসামিরা হলেন- জালাল (৩৫), হারুন (৩৬), নুরুজ্জামান (৩২), শাহাবুদ্দিন (৩৬), এনামুল (২৮), মনির মীর (৩০) দুলাল (৩৪)। 

    এ ঘটনায় মনিরসহ বেশ কয়েকজন আসামির পিতার নাম, বংশ ও ঠিকানা অজ্ঞাত রেখে মামলা করা হয়। ২০১৭ সালের ৭ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মনির এ মামলার ৬ নং আসামি। 

    ওই বছরের ১১ নভেম্বর আমতলীর দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া এলাকার মনির মীরকে তার বাড়ী থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। ছয় মাস তিনি হাজতবাস শেষে জামিনে মুক্তি পান।

    মনির মীরের পরিবারের অভিযোগ, নামের সাথে মিল থাকায় ডাকাতি মামলায় গত ছয় বছর ধরে মনির মীর হাজিরা দিয়ে আসছেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাচাই বাছাই না করেই মনির গাজীর পরিবর্তে তাকে আসামি করেছেন। মামলার আসামি মনির গাজী এবং তার বাড়ী একই গ্রামে। 

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামের হাতেম গাজীর থেকে মনির গাজী (৪৪) তার নামে অস্ত্র, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ ৭টি মামলা রয়েছে। মামলাগুলোতে সে এজাহারভুক্ত আসামি। পুলিশ তাকে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে।

    মনির মীর বলেন, মনির গাজী এবং আমার বাড়ী একই এলাকায়। তার সাথে আমার নামের মিল রয়েছে কিন্তু পিতা ও বংশের কোন মিল নেই। পুলিশ যাচাই বাছাই না করেই মনির গাজীর পরিবর্তে আমাকে ডাকাতি মামলার আসামি বানিয়েছে। অপরাধ না করেও আমি ডাকাতি মামলার আসামি হয়ে ছয় মাস জেল হাজতে ছিলাম। আমি আর পারছি না, দ্রুত এ মামলা থেকে মুক্তি চাই।

    গ্রাম পুলিশ লোকমান মৃধা বলেন, ঢাকায় না গিয়েও মনির মীর ডাকাতি মামলায় কিভাবে আসামি হয় বুঝলাম না।মনির মীর সহজ সরল মানুষ। তবে মনির গাজী এলাকায় থাকে না, বিভিন্ন অপরাধের সাথেও জড়িত।

    স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিন্টু মল্লিক বলেন, মনির মীর একজন ভালো মানুষ। নামের মিল থাকলেও পুলিশ অধিকতর তদন্ত করেনি। অধিকতর তদন্ত করলে এমন ঘটনা ঘটতো না।

    তৎকালীন ঢাকা কলাবাগান থানার পরিদর্শক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা ১৬৪ ধারায় যাদের নাম বলেছে তাদের নাম ঠিকানা যাছাই করতে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়েছি। তারা যাচাই বাছাই শেষে আসামি সনাক্ত করেছে। 

    তিনি আরও জানান, আসামি সনাক্ত করতে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমতলী থানা পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। 

    আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, চার্জশিটভুক্ত আসামি মনির মীরকে আদালতে প্রমাণ করতে হবে তিনি আসামি নন। তবে আদালত আমার কাছে তথ্য চাইলে আমি যাচাই বাছাই শেষে প্রকৃত তথ্য আদালতে দেব। 

    তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগী মনির মীর ও পরিবার মামলার নথি ও কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে আসলে তাদের সহযোগীতা করা হবে।

     


    বরগুনা/রেজাউল ইসলাম টিটু/এসএমএইচ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ