পরিচয়হীন বাকপ্রতিবন্ধী পেল স্থায়ী ঠিকানা
_17_05_22.jpeg)
ভোলায় উদ্ধার হওয়া নাম পরিচয়, ঠিকানা বিহীন, অভিভাবকহীন বাকপ্রতিবন্ধী অসহায় মেয়ে পেলো স্থায়ী ঠিকানা। রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েটিকে স্থায়ী ঠিকানায় ব্যবস্থা করেন ভোলার পুলিশ প্রশাসন। গাজীপুরের পুবাইল সরকারী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানাের হয় মেয়েটিকে। ঘটনাটি মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন ভোলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
ভোলা সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সোমবার রাত সাড়ে আটটায় ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে বরিশাল হতে ভােলাগামী লঞ্চের যাত্রীরা যখন লঞ্চ থেকে নামছিল ঠিক ওই সময়ে একজন অভিভাবকহীন বাকপ্রতিবন্ধী যাত্রীকে দেখা যায় যার বয়স অনুমান ১৮ বছর।
লঞ্চের যাত্রীরা তার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে মেয়েটি কোনাে উত্তর দিতে পারেনি। অসহায় মেয়েটি অনেক কান্নাকাটি করতে থাকে। ঠিক তখন ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মােঃ ফরহাদ সরদার এ ঘাটে নিরাপত্তা ডিউটি তদারকি করতে গেলে বিষয়টি তার দৃষ্টিগােচর হয়।
অভিভাবকহীন, বাকপ্রতিবন্ধী, অসহায় মেয়েটির নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি মেয়েটিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসেন এবং তাকে ভােলা সদর মডেল থানার নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী ডেস্কে একজন নারী কনস্টেবলের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করেন।
পরবর্তীতে রাত ১২ টার দিকে মেয়েটি শারিরীকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিজেই সাথে করে মেয়েটিকে ভােলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসা করান। হাসপাতাল থেকে ফেরত আনার পর বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েটির সাথে থাকা ব্যাগের ভিতর থেকে অনেক খোঁজাখুজির মাধ্যমে একটি মােবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে জানা যায় যে মেয়েটি পিতৃমাতৃহীন একজন সন্তান এবং অজ্ঞাতনামা হিসেবে সে কাশিমপুর সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, গাজীপুরে দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ অবস্থান করেছিলো। সেখানকার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায় মেয়েটির বয়স ১৮ বছর হওয়ায় তারা মেয়েটিকে একটি গার্মেন্টেসে চাকুরী দেয়। কিন্তু মেয়েটি সেখান থেকে পালিয়ে প্রথমে ঢাকা থেকে বরিশাল এবং পরবর্তীতে বরিশাল থেকে ভােলায় চলে আসে।
এমন ঘটনার প্রেক্ষাপটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), ভােলা মােঃ ফরহাদ সরদার এর সার্বিক সহযােগিতায় তাকে গাজীপুরের পুবাইল সরকারী আশ্রয়কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তার সহিত আলােচনা সাপেক্ষে ভােলা জেলার প্রথম শ্রেনীর ম্যাজিষ্ট্রেটের সহযােগীতায় এবং আদেশক্রমে তাকে পুলিশের সহায়তায় নারী পুলিশ সহ স্কট করে গাজীপুরের পুবাইল সরকারী আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানাের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মােঃ ফরহাদ সরদার জানান, বাক প্রতিবন্ধী মেয়েটি একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়স্থান পেয়েছে। মেয়েটিকে একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়স্থান দিতে পেরে অত্যন্ত সন্তোষপ্রকাশ করেছেন। তিনি সকলকে মানবিক কাজ করার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। তিনি আরো বলেন, ভোলার পুলিশ সুপার মােঃ সাইফুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম এর দিক-নির্দেশনা মােতাবেক জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যই মানবিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সদা তৎপর রয়েছে।
ভোলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এর মহানুভবতায় একজন বাকপ্রতিবন্ধী ঠিকানাহীন মেয়ে খুঁজে পেলাে স্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এই ঘটনাটি একটি মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সকলকে মানবিক কাজে আগ্রহী হওয়ার বিষয়ে আহ্বান জানান ভোলার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
এএজে