পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে অর্থনৈতিক সঞ্চালন বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলে

বিশেষ করে দপদপিয়া, বিমানবন্দর, গড়িয়ার পাড়, শিকারপুর এলাকায় মহাসড়কের দুপাশে বেসরকারি খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে একের পর এক। আর কলাপাড়া ছাড়িয়ে কুয়াকাটাসংলগ্ন সড়কে সাইনবোর্ডের যেন শেষ নেই। এ সবই হচ্ছে পদ্মা সেতুকে টার্গেট করে।
পদ্মা সেতুর সুষ্ঠু ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আধুনিক বাস নির্মাণ শুরু করেছেন বরিশালের পরিবহন মালিকরা। তবে যাত্রীরা বলছেন, শুধু ব্যবসা নয়, সেবা ও নিরাপত্তায় মনযোগ দিতে হবে পরিবহন মালিকদের।
জেলা বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. ইউনূস আলী খান বলেন, এখন আমরা যারা কেবিনে যাই, আমরা চিন্তা করবো ৩ ঘণ্টায় ঢাকা যেতে পারছি। তাহলে আমি কেন সারারাত লঞ্চে থাকবো। তখন সড়ক পথে যাত্রী বেশি হবে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সদস্য ও বিএম কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের বিনিয়োগ ব্যবস্থার দ্বার খুলে দিয়েছে। সৃষ্টি হচ্ছে কর্মসংস্থান। পদ্মা সেতুকে ঘিরে এ অঞ্চলের মৎস্য, কৃষি, পর্যটন, অকাঠামো, ব্লু ইকোনমিসহ সব খাতের প্রসার ঘটবে।
অর্থনীতিবিদ আক্তারুজ্জামান বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য এরই মধ্যে উদ্যোক্তাদের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পদ্মা থেকে পায়রা দুপাশে বিনিয়োগের গোল্ডেন লাইন সৃষ্টি হচ্ছে। তার মতে, বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলে এক ভাগ প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাবে। এতে সারাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়বে শূন্য দশমিক ৬ ভাগ। তবে এক্ষেত্রে এখনই বৃহৎ পরিকল্পনা ও পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার। তিনি বলেন, এখন দরকার ফাইভ স্টার হোটেল, আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান, আধুনিক বিমানবন্দর। এসব বাস্তবায়নে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে মাস্টারপ্ল্যান দরকার। পরিবেশ রক্ষায় গড়তে হবে গ্রিন ইকোনমি।
পদ্মা ও পায়রা সেতুকে ঘিরে তাই বরিশাল তথা গোটা দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠতে শুরু করেছে হোটেল-মোটেলসহ বহু ছোট-বড় শিল্পায়ন-কল-কারখানা। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর তা বাস্তবায়ন করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি আরও বলেন, স্বপ্নের পদ্মা ও পায়রা সেতু নির্মাণ হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবন-জীবিকা বদলে যাবে। দক্ষিণাঞ্চল বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে। এই জনপদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিরাট সুযোগ সৃষ্টি করবে পদ্মা সেতু।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হওয়া আর বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়া একই কথা হবে। আমাদের এখন শুধু গ্যাস দরকার হবে। আর বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান এখনো খুলনা নির্ভর। সেগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয় সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, পদ্মা সেতুর দুই পারের সংযোগে দক্ষিণের ২১ জেলার আর্থসামাজিক এবং শিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে দেশের অন্যসব অঞ্চলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সমভাবে এগিয়ে যাবে বরিশালের শিক্ষা খাত।
কে আর