রেলস্টেশনে তরুণীকে হেনস্তা: আটক নারী তিন দিনের রিমান্ডে
নরসিংদী রেলস্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় করা মামলার আসামি মার্জিয়া আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ।
রোববার রাত ৩টার দিকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার আত্মীয়ের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে হেনস্তার ঘটনায় করা মামলার আসামি মার্জিয়া আক্তারকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।
ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ সোমবার বিকেলে মার্জিয়াকে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেনের আদালতে তুলে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের ওসি ফেরদৌস আলম সমকালকে এই তথ্য জানান।
১৮ মে নরসিংদী রেলস্টেশনে হেনস্তার শিকার হন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। দুই বন্ধুর সঙ্গে সকাল পৌনে ছয়টার দিকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেনের অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
এ সময় স্টেশনে মধ্যবয়সী এক নারী ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘এটা কী পোশাক পরেছ তুমি?’ তরুণীও পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনার তাতে কী সমস্যা হচ্ছে?’ এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এর মধ্যে সেই বিতর্কে যোগ দেন স্টেশনে অবস্থানরত অন্য কয়েকজন ব্যক্তি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, ওই তরুণীকে ঘিরে রেখেছে একদল ব্যক্তি। এর মধ্যেই এক নারী উত্তেজিত অবস্থায় তার সঙ্গে কথা বলছেন। বয়স্ক এক ব্যক্তিও তার পোশাক নিয়ে কথা বলছেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হলে ওই নারী দৌড়ে তাকে ধরে ফেলেন। এ সময় অশ্লীল গালিগালাজ করতে করতে তার পোশাক ধরে টান দেন ওই নারী। কোনো রকমে নিজেকে সামলে দৌড়ে স্টেশনমাস্টারের কক্ষে চলে যান তরুণী।
ওই ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২১ মে রাত নয়টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত মো. ইসমাইল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাকে ভৈরব রেলওয়ে থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরদিন শনিবার বিকেলে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ সিদ্দিকীর আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান এবং এ ঘটনায় মামলা করার নির্দেশ দেন।
ওই রাতেই ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলা করেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমায়েদুল জাহেদী। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলায় মো. ইসমাইল ও শিলা আক্তারের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজন নারী ও ৮ থেকে ১০ জন পুরুষকে আসামি করা হয়।
গত সোমবার ইসমাইলকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এএজে