পদ্মায় জেলের জালে ২৬ কেজির বাগাড়

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৬নম্বর ফেরিঘাট এলাকার পদ্মা নদীর মোহনায় জেলেদের জালে মঙ্গলবার সকালে ২৬ কেজি ওজনের বড় একটি বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি দৌলতদিয়া বাজারের আনোয়ার খাঁর মাছের আড়ত থেকে নিলামে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা ১২০০ টাকা কেজি দরে মোট ৩১ হাজার ২ শ টাকায় কিনেছেন।
স্থানীয় মৎস্য জীবীরা জানান, তিন-চার মাস পদ্মা নদীতে দেশীয় প্রজাতির বড় কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। মাছ না পাওয়ায় জেলেদের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও অনেকটা হতাশ ছিলেন। নদীতে পানি বাড়ায় অনেক দিন পর দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ফেরি ঘাটের অদূরে পদ্মা নদীর মোহনায় স্থানীয় জেলে ওয়াসেল হালদার ও তার দল জাল ফেললে ২৬ কেজি ওজনের বিশাল একটি বাগাড় মাছ শিকার করে।
দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরি ঘাট এলাকার চাঁদনী এন্ড আরিফা মৎস্য আড়তের সত্ত্বাধিকারী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, সকাল ৯ টার দিকে আনোয়ার খাঁর আড়ত ঘর থেকে নিলামে অংশ নিয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে মোট ৩১ হাজার ২০০ টাকায় কিনে নেই। মাছটি কেনার পর বিক্রির জন্য ফেরি ঘাটের পন্টুনের সাথে রশি দিয়ে বেধে রাখা হয়েছে। উৎসুক অনেকে মাছটি দেখতে ফেরি ঘাটে ভিড় করছেন।
চান্দু মোল্লা আরো বলেন, অনেক দিন পর পদ্মা নদীতে এত বড় একটি বাগাড় মাছ পাওয়া গেছে। এতে জেলেরা যেমন খুশি হয়েছেন, আবার আমরাও খুশি হয়েছি। মাছটি ১৪০০ টাকা কেজি দরে হলে বিক্রি করবো। ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পরিচিত জনদের সাথে যোগাযোগ করছি। এখনো বিক্রি হয়নি। তবে বিকেলের মধ্যে বিক্রি হয়ে যাবে আশা করছি।
গোয়ালন্দ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা টিপু সুলতান বলেন, বছরে নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশ মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কারণে এই মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পায়। তাছাড়া গোয়ালন্দের পদ্মা অন্যান্য নদীর তুলনায় দূষণ কম হওয়াতে মাছের বংশবিস্তার সাহায্য হচ্ছে। এছাড়াও এখন নদীতে পানি বাড়ার কারণে এসব বড় বড় মাছ নদীতে পাওয়া যাবে।
নদীতে পানি বেশি থাকলে পাঙাশ, রুই, কাতলা, বোয়াল, বাগাড়সহ দেশীয় বড় প্রজাতির মাছ আরও ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। আগামী প্রজন্মের জন্য এই মাছের স্থায়ী অভয়াশ্রম করা গেলে এমন মাছের বংশবৃদ্ধিসহ আরো বেশি পাওয়া যেত বলেন তিনি জানান।
এএজে