ঢাকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

Motobad news

২২ বছর পর সাপের অবৈধ খামার বন্ধের নির্দেশ

২২ বছর পর সাপের অবৈধ খামার বন্ধের নির্দেশ
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া গ্রামে গড়ে তোলা ‘বাংলাদেশ স্নেক ভেনম’ নামের সাপের খামারটি অবৈধ উল্লেখ করে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পটুয়াখালী বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

তবে খামারটি ২২ বছর ধরে পরিচালনা করছেন জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালিক রাজ্জাক বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, ‘আমার সাপের খামার অবৈধ নয়’। 

জানা যায়, গত সোমবার (২৯ মে) বিকালে ঢাকার বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন, পরিদর্শক অসীম মল্লিক ও পটুয়াখালী বন বিভাগ সদর রেঞ্জ কমকর্তা প্রণব চক্রবর্তী পরিদর্শন শেষে খামারটি বন্ধ করে সেখানকার সাপ উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, রাজ্জাক বিশ্বাস বিষাক্ত সাপের খামারটি অবৈধভাবে স্থাপন করে পরিচালনা করছিলেন। এছাড়া তিনি ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপে কাটার চিকিৎসা এবং এ বিষয়ে ভিডিও ধারণ করে তা ইউটিউবে প্রচার করছিলেন। এছাড়া খামারে সাপের কামড়ে কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আমরা ওই এলাকা এবং খামার পরিদর্শন করে এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তাই খামারের সাপগুলোকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তরের জন্য রাজ্জাক বিশ্বাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সাপগুলো উদ্ধারের পর বনে অবমুক্ত করার জন্য পটুয়াখালী বন বিভাগকেও অনুরোধ করা হয়েছে।

তবে খামারের মালিক রাজ্জাক বিশ্বাস বলেন, ২০০০ সালে একটি কিং কোবরা সাপ এবং ২৪টি ডিম দিয়ে খামারের যাত্রা শুরু। সাপের খামারের পিছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছি আমি। ব্যাংক ও এনজিও থেকে লোন নিয়ে এই খামার করেছি। আশা ছিল সরকারের অনুমোদন পেলে সাপের বিষ সংরক্ষণ করে লাভবান হবো। অনুমোদন না পাওয়ায় শুরু থেকেই লোকসানে ছিলাম। এখন খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে হতাশ হয়েছি। 

তিনি দাবি করেন, খামারের তিনশ' বিষধর সাপ থেকে প্রতিমাসে প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের বিষ উৎপাদন সম্ভব। এই বিষ দেশীয় ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এতে সাশ্রয় হতে পারতো বৈদেশিক মুদ্রা।

রাজ্জাক জানান তার খামারে বর্তমানে পঙ্খিরাজ, কেউটে, দাড়াশ, বাসুয়া, কালকুলিন, সাদা গোমা, পদ্ম গোমা, বিষঝুড়ি গোরাসসহ নানা জাতের ৩০০ সাপ রয়েছে।
 
খামার অবৈধ নয় দাবি করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বেসরকারি পর্যায়ে সাপ এবং কুমিরের খামার স্থাপনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে আবেদন করি। তবে সেই আবেদনের আজ পর্যন্ত কোনও অগ্রগতি হয়নি। এক সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে আবেদন করি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ড. মো. সহিদুল্যাহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেন। পরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় খামারের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করলেও পরিদর্শন শেষে আপত্তি জানায় বন বিভাগ। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আইনগত মতামত দেওয়ার জন্য বন বিভাগের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাপের খামারের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে বন বিভাগ একটি খসড়া আইন তৈরি করে। 

পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন , খামারটিতে বিষ সংগ্রহে অ্যান্টি ভেনমসহ যে সব সুবিধা নিয়ম অনুযায়ী থাকার কথা তার অনেক কিছুই নেই। এতে অনুমোদন দেওয়ার সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি।

পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাজ্জাক বিশ্বাস সাপের খামার তৈরি করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ওঝা বৃত্তি করছেন। তিনি ইউটিউবে এসব আপলোড করতেন। তিনি সমাজে কুসংস্কার ছড়িয়ে দিচ্ছেন ও নিয়ম মেনে সাপের খামার করছেন না। এতে খামারটি বন্ধ করার জন্য এপ্রিল মাসে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু খামারের মালিক রাজ্জাক বিশ্বাস নির্দেশ মানেননি। সে কারণে খামারটি বন্ধ করে সাপগুলো অবমুক্ত করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। 


এএজে
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন