ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১১  বুখাইনগরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ হুইলচেয়ারে পরীমণি, হঠাৎ কী হলো নায়িকার? আর্জেন্টিনা নাকি কেপ ভার্দে জিতবে কারা, জানাল সুপারকম্পিউটার সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণ করেন এএসপি ফজলুর পিরোজপুরে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক ৩ গলাচিপা প্রেসক্লাবের সাজ্জাদ আহ্বায়ক, মাহবুব সদস্য সচিব বরিশালে চার মৃত ব্যক্তিসহ আওয়ামী লীগের ২৪৮ নেতাকর্মীর নামে মামলা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে: মুয়াযযম হোসাইন হেলাল অবাধ তথ্য প্রবাহ গণতন্ত্রের ভিত শক্ত করে: এমপি সরোয়ার
  • আর্থিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দের ক্ষতি করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: গবেষণা

    আর্থিক ও মানসিক স্বাচ্ছন্দের ক্ষতি করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: গবেষণা
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    একসময় আমাদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি এখন আর কেবলমাত্র যোগাযোগই নয়, এটি বিনোদনসহ কেনা-কাটার জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা যায়, একটি স্মার্ট ফোন কোনো সুপার শপের চেয়ে কম নয়।

    ফোনের পর্দায় এদিক-ওদিক ভেসে বেড়াচ্ছে বহু বিজ্ঞাপন। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমের এসব বিজ্ঞাপন মানুষকে অহেতুক খরচে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মানুষের সুখের অনুভূতিকেও আটকে দিচ্ছে।

    এসব প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন আমাদের মনে সৃষ্টি করছে অবাস্তব কিছু প্রয়োজন। এর কারণ হতে পারে বিজ্ঞাপনের পুনরাবৃত্তি, বিভিন্ন মূল্যছাড়ের প্রস্তাব, কিংবা বিনামূল্যে ডেলিভারির মতো ঝা চকচকে ভোজবাজি।

    চূড়ান্ত ভোগবাদের এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের খরচের অভ্যাসটা পরিচালিত হচ্ছে তার সামাজিক মাধ্যমে কাটানো জীবনযাত্রা দিয়েই।

    সম্প্রতি ব্যাংকরেট.কমের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক সংখ্যক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বিভিন্ন স্পনসর করা বিজ্ঞাপনের কারণে এমন হুটহাট খরচের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

    ব্যাংকরেটের বিশ্লেষক সারা ফস্টার জানান, আপাতদৃষ্টিতে প্রাত্যহিক জীবনে মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা হিসেবে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। ফলে সাময়িকভাবে পণ্য বা সেবাগুলো অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক, অনেক বেশি জরুরি মনে হয়। কিন্তু অর্ডার করার একটা নির্দিষ্ট সময় পরই অনেক ক্রেতার মনে হয়, এই খরচটার কোনো দরকার ছিল না।

    ৬৪ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীই এমন বিজ্ঞাপন দেখে আবেগের বশবর্তী হয়ে কেনাকাটা করে অন্তত একবার হলেও আফসোস করেন।

    সারা ফস্টারের মতে, সেইসব কেনাকাটা আমাদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিই বেশি করে। সামাজিক মাধ্যমের রঙিন দুনিয়ার যে চিত্র আমরা দেখি, পণ্য বা সেবা হাতে আসার পর সে ধারণা ভেঙে যায়।

    জরিপ থেকে জানা যায়, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যম শুধু মানুষের পকেট হালকা করতেই ভূমিকা রাখছে না; মানুষের সুখ-সুখের অনুভূতিকেও যেন একটা গণ্ডিতে আটকে ফেলছে এই বিজ্ঞাপনগুলো। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ব্যবহারকারী বা ক্রেতা তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন, যা কিনা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বেশ বাজে প্রভাব ফেলে।

    ৪৭ শতাংশ জেন-জি এবং ৪৬ শতাংশ মিলেনিয়াল প্রজন্ম নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কেন না তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে অন্যদের জীবনযাত্রার চাকচিক্য দেখে নিজেদের সঙ্গে তুলনা করে বসেন। প্রজন্মান্তরের কারণে আধিক্যটা কম হলেও এর মধ্যে আছেন ৩১ শতাংশ জেন-এক্স ও ২২ শতাংশ বেবি বুমার প্রজন্ম। আর এই তুলনার মানসিকতাটা আসে নিরলসভাবে সারাক্ষণ নিউজফিডের পর্দায় অন্যের বিভিন্ন কার্যক্রম দেখে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।

    ফস্টার বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গেই বেড়ে উঠেছে কিংবা বলা যায় সামাজিক মাধ্যমের বেড়ে ওঠাটা তারা দেখেছে। তাই তাদের মধ্যে প্রভাবটাও অন্য যে কোনো বয়সীদের চেয়ে অনেকগুণ বেশি।

    এখন যারা শিশু-কিশোর, তারাও এর বাইরে নেই। খুব কম বয়সে হাতে ধরিয়ে দেওয়া ফোন বা গ্যাজেট তাদের সময়েরও অনেক আগে সামাজিক মাধ্যমের দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে দিচ্ছে। সেখান থেকে 'টাকা' বা অর্থের বিষয়ে তাদের মনে সৃষ্টি হচ্ছে এক অবাস্তব প্রত্যাশা, যা হয়তো বাস্তব জীবনে পূরণ করা সম্ভব নয়। সে থেকে খুব অল্প বয়সেই তারা মুখোমুখি হচ্ছে অসন্তোষের। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের মানসিক সুস্থতা।

    ফস্টারের পরামর্শ, কেনাকাটা করার আগে, অন্তত বিলটা চেক আউট করার আগে একটু ভেবে দেখুন। নয়তো আক্ষেপটা এড়ানো মুশকিল হবে।

    তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে যেভাবে সাজানো হচ্ছে, তাতে শুধু ব্যবহারকারীর জীবনের সবচেয়ে ভালো দিকগুলোই উঠে আসে। এই মাধ্যমটি এখন যেন, রাস্তার পাশের বড় বিলবোর্ড হয়ে উঠেছে। প্রতিটি পোস্ট, প্রতিটি ছবি, প্রতিটি আপডেটই একজন ব্যবহারকারীকে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত করে যাচ্ছে।

    সূত্র: ইয়াহু নিউজ, ফরচুন


    এএজে
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ