ইন্টারনেট–সেবায় সব ধরনের কর ও ভ্যাট মওকুফের দাবি আইএসপিএবির

জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে ইন্টারনেট–সেবার ওপর আরোপ করা সব ধরনের কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম। সংগঠনের বাজেট প্রত্যাশা তুলে ধরে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বর্তমানে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট বাড়িয়ে আবারও আগের মতো ১৫ শতাংশ করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
এটা হলে এই খাত বিপদে পড়বে। যদি করের বোঝা বাড়ানো হয়, তবে তা সরকারের শতভাগ আইসিটি–নির্ভর উদ্যোগ ও আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহাপরিকল্পনাকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করবে। প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে কর কমানোর কোনো বিকল্প নেই। আর তাই ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে তা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে আমরা অনুরোধ করছি।
বর্তমানে দেশের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক বিস্তৃতির হার মাত্র ৮ শতাংশ। সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইসিটি প্রকল্প, ফ্রিল্যান্সিং খাতের উন্নয়ন এবং ঘরে ঘরে ডিজিটাল সেবা পৌঁছানোর যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ানো জরুরি। এ বিষয়ে আমিনুল হাকিম বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে ব্যবহার বাড়াতে হলে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমাতে হবে, অথচ ভ্যাট বাড়ানোর গুঞ্জন আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুনর্বহাল করা হলে তা গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে, যা নতুন সংযোগের গতিকে স্তিমিত করে দেবে। যেখানে সরকারের লক্ষ্য প্রত্যেক নাগরিককে ইন্টারনেটের আওতায় আনা, সেখানে ভ্যাট শূন্য করা হলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
বর্তমানে ইন্টারনেট খাতে বিভিন্ন স্তরে ভ্যাট ও করের যে জটিল বিন্যাস রয়েছে, তা সহজীকরণের দাবি করে আমিনুল হাকিম বলেন, শুধু গ্রাহক পর্যায়ের ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করাই যথেষ্ট নয়, ইন্টারনেট সরবরাহের পুরো চেইনে (আইটিসি, আইআইজি থেকে আইএসপি স্তর পর্যন্ত) শুল্ক ও করের ভারসাম্য আনা প্রয়োজন। বর্তমান কর কাঠামোয় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বাজেটে যদি এই ট্যাক্স ও ভ্যাট কমানো হয়, তবে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চগতির ইন্টারনেট প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারবে। এতে একদিকে যেমন তরুণদের কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিং বাড়বে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব খাতও পরোক্ষভাবে লাভবান হবে।
ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের মূল ভিত্তি হলো সুলভ মূল্যের ইন্টারনেট। করের হার বাড়িয়ে সাময়িক রাজস্ব বৃদ্ধির চেষ্টা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের সামগ্রিক আইসিটি খাতের প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে। তাই আসন্ন বাজেটে এই খাতে সামগ্রিক কর হ্রাস করার মাধ্যমেই কেবল সরকারের আইসিটি-নির্ভর উদ্যোগগুলোর প্রকৃত বাস্তবায়ন সম্ভব।
এইচকেআর