ঢাকা রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

Motobad news

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও সুফল নেই বাংলাদেশে

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমলেও সুফল নেই বাংলাদেশে
ফাইল ফটো
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দাম প্রতিনিয়ত কমছে। তবে দেশের বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়ছে না। বিধায় চড়া দামেই ভোজ্যতেল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। সরকারি তদারকি সংস্থাগুলো বলছে, তেলের দাম সমন্বয় করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিগগিরই ভোক্তারা এর সুফল পাবেন।

এদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছে, ডলারের বিনিময়মূল্য স্থিতিশীল না হওয়ায় দেশের বাজারে এর সুফলতা মিলছে না। এখনো ১৭০০ ডলার দিয়েই তেল আমদানি করতে হচ্ছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়লে দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়াতে একমুহুর্ত দেরি হয় না। অথচ দাম কমলেও বাড়তি দামেই বিক্রি করা হচ্ছে ভোজ্য তেল।

জানাগেছে, চলতি বছরের মার্চে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত পাম অয়েলের সর্বোচ্চ দাম ওঠে এক হাজার ৭৭৭ ডলার। সয়াবিনের দাম মার্চে ওঠে এক হাজার ৯৫৭ ডলারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়িয়ে ২০৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে, গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার বাজারে প্রতি টন পাম তেল সাত হাজার ৭৫৭ রিঙ্গিত থেকে নেমে এসেছে তিন হাজার ৭৫৯ রিঙ্গিতে। দেশের পাইকারি বাজারে এর প্রভাবে দাম কমলেও তার কোনো প্রভাব নেই খুচরা বাজারে।

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে প্রতি লিটার তেল ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। কিন্তু তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো দাম সমন্বয় না করার কারণে খুচরা বাজারে তাদের আগের নির্ধারিত দাম প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৭৫ টাকা ও খোলা পাম তেল ১৪৫ টাকায় বিক্রি করছে। 

এ ব্যাপারে ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমা অব্যাহত আছে। মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডলার। তবে দাম কমানোর প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। এখন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। দাম সমন্বয় করা হবে। সহসাই মানুষ এর সুবিধা পাবে।

তিনি বলেন, কতো টাকা কমবে এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে এখন যে তেলের দাম ১৮০ টাকা সেটি হয়তো ১৭০ টাকা হবে। আর ১৭০ টাকারটা ১৬২ টাকা হতে পারে। তাছাড়া এখন বাজারে বিক্রি হওয়া তেল দেড়-দুই মাস আগের আমদানি করা বলে জানান তিনি।

ভোজ্যতেল বিপণনকারী কোম্পানি টিকে গ্রুপের পরিচালক মো. শফিউল আতহার তাসলিম বলেন, দাম বাড়ানো বা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে মূলতঃ ট্যারিফ কমিশন। তারা কাজ শুরু করেছে। 

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে সাথে সাথে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু দাম কমলে আমাদের ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দেখায়। সরকার যখন তেলের দাম পাঁচ থেকে ছয় টাকা কমিয়েছিল তখনো কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম ছিল। কিন্তু ডলারের অজুহাত দেখিয়ে তেলের দাম আবারো বাড়ানো হয়েছিল।

সরকারি তদারকি সংস্থাগুলোকে একটিভ রোল প্লে করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের অজুহাত এনালাইসিস করে দেখতে হবে। তাহলে ভোক্তারা এর সুফল পাবে। ভোক্তাদের আর ঠকতে হবে না।


কে.আর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন