ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বিএম কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ইফতারের আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ ভাইরাল ভিডিওতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, আরেক আসামি ব্যাংক ম্যানেজার সাংবাদিক মাসুম মিজ‍ানের বিরুদ্ধে মামলায় ডিআরইউর তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ সংস্কারের পর নতুন রূপে সংসদ ভবন, বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে অধিবেশন টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠালো বাংলাদেশ বিভাগীয় শহরে জ্বালানি তেল সরবরাহের নতুন নির্দেশনা লাইসেন্স জটিলতায় থেমে গেছে ব্রিজের কাজ, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা জ্বালানি তেলে অনিয়ম রোধে ডিসিদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ নাব্যতা সংকটে হুমকিতে দক্ষিণাঞ্চলের নৌ যোগাযোগ!
  • জনবল সংকটে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ

    জনবল সংকটে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল দিয়েই চলছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম। তবে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে মঞ্জুরকৃত পদ রয়েছে, তার অধিকাংশ পদই খালি। আর এর মধ্যে সব থেকে বেশি খালি রয়েছে চিকিৎসকদের পদ। ফলে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আশা রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসকদের ৫৮টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন চিকিৎসক, বাকি ৩৫ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন যাবত খালি। একই অবস্থা অন্যান্য পদগুলোতেও। 

    হাসপাতালে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে সর্বমোট ৩৩০টি পদ থাকলেও এর মধ্যে ১০৩টি পদ দীর্ঘদিন যাবত খালি রয়েছে।

    হাসপাতালে চিকিৎসকদের যেসব পদ খালি রয়েছে তার এর মধ্যে আছে সহকারী পরিচালক, সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়া), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), সিনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি ও ইমেজিং), জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন), আবাসিক ফিজিসিয়ান, আবাসিক সার্জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, অ্যানেস্থেটিস্ট (৩ জন), প্যাথলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার, সহকারী রেজিস্ট্রার (৭টি), ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার (৪টি) ও ডেন্টাল সার্জন (১টি)।

    এছাড়া সেবা তত্ত্বাবধায়কের ১টি, উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়করে ১টি, পরিসংখ্যান কর্মকর্তার ১টি, নার্সিং সুপারভাইজারের ২টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স/ স্টাফ নার্স ৪টি, সহকারী নার্স ৩টি, সহকারী হিসাব রক্ষক ১টি, অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফার্মা) ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) ১টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ফিজিওথেরাপি), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (বায়োকেমিস্ট), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইসিজি) ৩টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (অ্যানেস্থেশিয়া) ৩টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডায়ালাইসিস) তিনটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (বায়োমেডিকেল) তিনটি, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইকো) তিনটি এবং কার্ডিওগ্রাফারের ২টি পদ খালি রয়েছে।

    এছাড়া কম্পিউটার অপারেটর, স্টুয়ার্ড, ওয়ার্ড মাস্টার, রেকর্ড কিপার, লিলেনকিপার, টিকিটক্লার্ক, ড্রাইভার, স্টেরিলাইজার কাম মেকানিক, জুনিয়র মেকানিক কাম পাম্প অপারেটর, ক্যাশ সরকার, অফিস সহায়ক ১৩ জন, ডোম, বাবুর্চি ১ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ১০ জন ও ইলেকট্রিসিয়ান ১ জন, ওয়ার্ড বয় ২ জন, আয়া ৭ জন, দারেয়ান ৯ জন, মালি ১ জন ও সুইপার ৪ জনের পদ খালি রয়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগসহ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন বর্তমানে কর্মরতরা। 
    প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী ভর্তি থাকার পাশপাশি জরুরি বিভাগ থেকে প্রতিদিন গড়ে আড়াইশো থেকে তিনশো এবং বহিঃবিভাগে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে।

    পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমীন লিজা বলেন, প্রতিদিন হাজারের অধিক রোগীকে আমরা চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি। তবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হলেও আমাকে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জনবল দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। 

    এরপরও ২৫০ শয্যা হাসপাতালের যে জনবল বরাদ্দ আছে তারও অধিকাংশ পদ খালি। প্রতি মাসে আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করে চিঠি লিখছি। ২৫০ শয্যার বিপরীতে চিকিৎসকদের যে পদগুলো আছে সব পদে চিকিৎসক থাকলে কিছুটা হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হতো। এছাড়া হাসপাতালের ক্লিনার, সুইপারের যেসব পদ রয়েছে সেসব পদেও কর্মচারী না থাকায় হাসপাতালকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    তিনি বলেন, এমনিতে বিপুল সংখ্যক রোগী, এরসঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রোগীর আত্মীয়-স্বজন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের সমাগাম হচ্ছে। ফলে এত মানুষের সৃষ্ট ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করাও এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


    আরজেএন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ