ঢাকা শনিবার, ২২ জুন ২০২৪

Motobad news

এ কী রাজনীতি, নাকি চর দখলের প্রেক্ষাপট?

এ কী রাজনীতি, নাকি চর দখলের প্রেক্ষাপট?
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

----বিপ্লব রায়, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, মতবাদ 

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশে রাজনৈতিক যে অবরোধ চলছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে সত্যি খুবই আতঙ্কের। জীবনের নিরাপত্তা নেই। বাজারে গিয়ে স্বস্তি নেই। বাড়তি আয় নেই। রাস্তায় বের হলে যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে  হামলা, গ্রেপ্তার, বিস্ফোরণ, বাসে আগুনের আশঙ্কা। যুগের পর যুগ দেখতে দেখতে এই বাস্তবতা এখন মেনে নিতে হয়েছে।
 
এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিএনপি-জামায়াত কি না, এমন পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য পথে পথে পুলিশের তল্লাশি। মোবাইল ফোন চেকিং। এ যেন মড়ার ওপর খাড়ার ঘা। এর নাম রাজনীতি? জনগণ ও দেশের কল্যাণ? 

 এ দেশে সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক আদিকাল ধরে দা-কুমড়ো সম্পর্ক। কারণ একদল দেশ সেবার নামে রাজকীয় সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আর অন্য দল তাকিয়ে দেখে। কারণ তদের মধ্যেও একই বাসনা। এরা জনগণের নাম ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টায় রাজনীতি করে। মুখে সবার জনগণের প্রতি প্রেম। এটা রাজনীতির নামে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়। অথচ এমন হওয়ার কথা ছিল না। কথা ছিল একটি বা একাধিক দল মিলেমিশে দেশের ভার নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করবে। বিরোধীরা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। সরকার তাদের ভুলগুলো শুধরে নিবে। কিš‘ হচ্ছেটা কী? ঠিক যেন চর দখলের লড়াই। শাসকরা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বল প্রয়োগ করে সব দখলে রাখছে, বিরোধীরা পালিয়ে বেড়িয়েছে। সুযোগ পেলে বিরোধিরা পুলিশও পিটিয়ে মেরে ফেলছে। আর জনসভায় গিয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদগার। দেখে নেওয়ার হুমকি। এ কেমন কথা!

গত ২৮ অক্টোবর ভয়াবহ সহিংসতায় ঢাকায় পুলিশ সদস্য পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল পারভেজকে কী নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। এরপর পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষেও সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন  অবস্থায় মারা গেলেন সিনিয়র সাংবাদিক রফিক ভুইয়া। মারা গেলেন বিএনপির এক কর্মী। আহতের প্রকৃত সংখ্যা তো জানাই যায়নি। এরপর বিএনপি মহাসচিব ৭৫ বছর বয়সী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে জেলে পুড়ে দেয়া হলো। এই রাজনীতি আপনারা শিক্ষা দিয়েছেন নতুন প্রজন্মকে। 

গত ৩০ অক্টোবর প্রথম আলোর খবরে জানা গেছে, বিএনপিকে আর ঘুরে দাঁড়াতে দিবে না আওয়ামী লীগ। তার মানে সব শক্তি ক্ষমতাসীনদের হাতের মুঠোয়। অন্যদিকে বিএনপিও সরকারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার হুঙ্কার দিয়েই জাচ্ছে বার বার। কিন্তু  কথা হচ্ছে- তাহলে গণতন্ত্র নামে যে শব্দচয়নটা করা হচ্ছে, তার দরকারটা কী? এই ‘গণ’ শব্দটাকে কেন অপমান করা হচ্ছে? গণতন্ত্রের মোড়কে আপনাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার আর কতকাল হবে এ দেশের নিরীহ মানুষ? 


প্রথাবিরোধী লেখক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, সবকিছুই একদিন নষ্টদের অধিকারে চলে যাবে। সেই দু:সময়টা আমাদের দেখতে হচ্ছে। এরচেয়ে দুর্ভাগ্য আর নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় টেঁটাযুদ্ধ হয়। একজনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের ঝগড়া লাগলেই সবাই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইচ্ছে না থাকলেও পড়তে হয় অনেককে। এ দেশের রাজনৈতিক অবস্থাও ঠিক তেমনি। জোর যার, মুলুক তার।

 ক্ষমতা নিয়ে এতোকিছু হচ্ছে কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণে কারো কোনো চিন্তা নেই। কারণ তারা জানে, আগে ক্ষমতা দরকার। ক্ষমতা থাকলে বাজারে তাদের আটকাবে না। 

এদিকে দ্রব্যমূল্যের জাঁতাকলে পিষ্ঠহচ্ছেন মানুষ। বাজারে ৬০ টাকার নিচে আলুও কেনা যায় না। মহল্লার দোকানগুলোতে আরো বেশি। ডাল- পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েই চলছে। ৭০-৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই। মাছ-মাংস বড়লোকের খাবার। গরিব মানুষ ঠিকমতো খেতে পারছেন না।কিন্তু তাতে কী? এতে ক্ষমতার জন্য রণক্ষেত্র থামে না। কারণ, গোটা দেশে এখন চলছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের আতঙ্ক।কিন্তু‘ আর নয়। জনগণের নাম দিয়ে এই ক্ষমতার লড়াই থামানো হোক। না হলে সবাইকে একদিন জবাবদিহি করতে হবে নতুন প্রজন্মের কাছে। অনেক হয়েছে, এবার থামুন।


গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন