ঢাকা শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচির ওপর পুলিশের গুলির প্রতিবাদে ববিতে বিক্ষোভ  আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে শাহবাগে অবস্থান পুলিশের বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ কেন্দ্র দখলে গেলে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করা হবে: মুফতি রেজাউল করীম জুলাই সনদ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: তারেক রহমান কর্মজীবী নারী সম্পর্কে অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে নারীদের ভ্যান র‍্যালি বরিশা‍লের নথুল্লাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে: মুফতী ফয়জুল করীম যারা দল সামলাতে পারেনা, তারা দেশ চালাবে কিভাবে : বরিশালে জামায়াত আমির ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর: প্রেস সচিব ঝালকাঠিতে ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় অস্ত্রসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা আটক
  • দক্ষিণাঞ্চলে বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মাছ

    দক্ষিণাঞ্চলে বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মাছ
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    মাছে ‘ভাতে বাঙালি’ এই প্রবাদ গ্রাম-বাংলায় খুঁজে পাওয়া যায়না। দক্ষিণাঞ্চলে বিলুপ্তির পথে দেশি প্রজাতির মাছ। হাটবাজারে দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখা যায় না। কিছু দেখা গেলেও তার দাম ক্রেতার  নাগালের বাইরে। 

     দক্ষিণাঞ্চলে বড় কোনো খাল-বিল চোখে পড়ে না। সাগরের উজান থেকে প্রবাহিত পানি শাখা নদী পায়রা ও আন্ধারমানিক দিয়ে বেড়িবাঁধের সুইজ গেট দিয়ে শত শত ছোট খাল-বিলের মধ্যে প্রবেশ করলেও শুকনা মৌসুমে নদীতে পানি থাকে না।

    দক্ষিণাঞ্চলে দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ওয়াপদার বেড়িবাঁধের ভেতরে খাল-বিলে পানি কমার কারণে নিয়মিত ধান ও অন্যান্য ফসলাদি চাষাবাদ করায় বিলের মধ্যে ছোট ছোট খালগুলো অস্থিত্ব এখন মৃতপ্রা। 
    কালের বিবর্তণে লোকালয়ে খাল-বিল বন্ধ ভরাট করে অনেকে ধানী জমিতে পরিণত এবং তৈরি করা হয়েছে আবাসন। এই খালগুলো সরকারি জমি থাকলেও দখল করে নিচ্ছে বিত্তবান ও প্রভাবশালীরা। যেন দেখার কেউ নেই।

    নদীর সাধারণ পানিপ্রবাহের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বাঁশের বেড়া ও মাটি দিয়ে বাঁধ। ফলে বর্ষা মৌসুমের পর অর্থাৎ শুকনা মৌসুমে নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুরে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মা মাছ হ্রাস পাচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বংশবিস্তার করতে পারছে না।

    ফসলের জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়েছে। ফলে জমির উর্বরা শক্তি দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। 

    গ্রামগঞ্জে জনসাধারণের মাঝে ব্যাপকহারে কারেন্ট জাল তথা বেহেন্তি জালের ব্যবহার বেড়েছে। খাল-বিল ও পুকুরে মাছের আকারভেদে এসব জালের ব্যবহার করায় মা মাছসহ ছোট পোনা মাছের বাচ্চাও ধরা পড়ছে। 

    ২৫-৩০ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত চলে আসছে। ফলে বাজারে ভরা মৌসুমে দেশি জাতের কৈ, টাকি/চেং, টেংরা, ভেদি, পুটি, বাইন, শিং, মাগুড়, শোল, পাবদা, খৈলশা, ফাইলশা, গুলিশা, শলা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি, হরিনা চিংড়ি, মৌ কাটালি, কোড়াল, বোতড়া, বৌকনা, বোয়াল, গজাল, তিতপুটি, মলিনদা পুটি আরো শতাধিক জাতের দেশি মাছ এখন হারিয়ে যাচ্ছে। 

    আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মাহমুদুল হাসান জানান, মৎস্য সম্পদকে রক্ষার জন্য নদী-নালা, খাল-বিলের গতিপ্রবাহ ঠিক রেখে আবশ্যক দেশি মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলার পাশাপাশি ডিমওয়ালা ও মা মাছ রক্ষার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। 

    আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঈসা জানান, আমরা কৃষকদের বিভিন্ন সেমিনারে বলে থাকি, ধানক্ষেতে মাত্রারিক্ত কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক সার দেয়া যাবে না। 

    কিন্তু কীটনাশক, সার এটা জাতীয়ভাবে নির্ধারণ করা এগুলো নিষেধ করা যাবে না। এছাড়া কারেন্ট জাল, গড়া জাল, হাতে টানা ঘন কারেন্ট জাল ব্যবহার রোধসহ জমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে পারলে অন্তত বর্ষা মৌসুমে দেশি জাতের মাছগুলো বংশ বিস্তার করতে পারবে।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ