ঢাকা বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

Motobad news

৮২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞায় পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

৮২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞায় পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা ৮২ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরে অবস্থান না করার নির্দেশনার কারণে কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সমুদ্র কন্যা খ্যাত এই পর্যটনস্পট। হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সমুদ্র সৈকত, সবখানেই নীরবতা বিরাজ করছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম দেশের সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদের কাছে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষের ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এই ঘোষণার পর থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটক আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় হোটেল-মোটেল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকেই নতুন বুকিং বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অধিকাংশ বুকিং বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে শীত মৌসুমের ভরা সময়ে হোটেলগুলো প্রায় খালি পড়ে আছে।

সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড বিলাসের এজিএম আল-আমিন উজ্জ্বল বলেন, ৮২ ঘণ্টার এই নিষেধাজ্ঞা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। শীতকাল পর্যটনের প্রধান সময়। কিন্তু এখন রুমগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। নতুন কোনো বুকিং নেই। এটি আমাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি।

খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল খান বলেন, নির্বাচন অবশ্যই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে দীর্ঘ সময়ের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ব্যবসার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। কয়েকদিনের আয় বন্ধ থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সময় লাগবে।

শুধু হোটেল ব্যবসায়ীরাই নন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সৈকতনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ফটোগ্রাফার মো. আয়নাল ফকির বলেন, পর্যটক না থাকায় আয় একেবারে বন্ধ। সাধারণত এই সময়ে প্রতিদিন ভালো রোজগার হয়। এখন সারাদিন বসে থাকলেও কোনো কাজ নেই।

পর্যটক না থাকায় আশপাশের দোকানপাট ও রেস্টুরেন্টগুলোও প্রায় বন্ধ। অনেক ব্যবসায়ী আগেভাগেই নিজ নিজ এলাকায় ভোট দেওয়ার জন্য চলে গেছেন। ফলে কুয়াকাটার পর্যটননির্ভর অর্থনীতি কয়েকদিনের জন্য পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, নির্বাচনি দায়িত্বপালনের কারণে তাদের বেশিরভাগ সদস্য অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সীমিতসংখ্যক সদস্য দিয়ে কুয়াকাটার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে কুয়াকাটায় পর্যটক নেই বললেই চলে। তবে পর্যটক হিসেবে ভ্রমণে আসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত আছি।

হোটেল-মোটেল মালিক ও ব্যবসায়ী আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে ও পর্যটকের আগমন বাড়বে। তবে দীর্ঘ সময়ের এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পর্যটন খাতে তাৎক্ষণিক যে ধাক্কা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন