শেবাচিম হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের সামনে সন্তানকে মারধর!

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করাতে এসে স্টাফদের মারধরের শিকার হয়েছে এক যুবক। এসময় তাঁর সাথে থাকা মায়ের চিকিৎসার প্রায় ১২ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে। শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতালের পূর্বপাশে নতুন বহিঃর্বিভাগ ভবনের নিচতলায় এই ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার যুবকের অভিযোগ, অসুস্থ মায়ের পায়ে ট্রলি উঠিয়ে দেয়ার প্রতিবাদ করায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রাসেল ও রিভু নামের দুই ব্যক্তি তাঁর ওপর কয়েক দফা মামলা চালায়। এসময় গাঁয়ে থাকা টি-শার্টও ছিঁড়ে ফেলেছে ওই দুই কর্মচারী। এদিকে রোগীর স্বজনকে মারধরের ঘটনার বিচার না করে উল্টো কর্মচারীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
বিচার না করে সহকারী পরিচালকের কক্ষ থেকে তাদের অনেকটা বেড় করে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিতে এমন চিত্রই দেখা গেছে। মারধরের শিকার যুবক বরিশাল নগরীর দক্ষিণ রূপাতলীর বাসিন্দা জাহাঙ্গীর খানের ছেলে সাগর খান জানান, তাঁর ক্যান্সার আক্রান্ত মা লাকি বেগমকে চিকিৎসা করাতে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
ঘটনার সময় মাকে নিয়ে হাসপাতালের নতুন বহিঃর্বিভাগ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই যুবক। তখন ট্রলিচালক বেপরোয়াভাবে এসে অসুস্থ মায়ের পায়ের ওপর ট্রলির চাকা তুলে দেয়। এর প্রতিবাদ করা মাত্রই ক্ষেপে যান দুই ট্রলিচালক। এসময় ট্রলিচালক রাসেল এবং রিভু অতর্কিতভাবে কয়েক দফা হামলা করে সাগরের ওপর।
সাগর বলেন, কর্মচারীরা মারধর করে আমার গায়ের টি-শার্ট ছিড়ে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়েছি। কিন্তু তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার পরও তাদের কর্মচারীদের পক্ষেই সাফাই গেয়ে যান। এমনকি ঘটনার কোন বিচার না করে দুই পক্ষকে মিলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু খোয়া যাওয়া মায়ের চিকিৎসার ১১ হাজার ৭৯০ টাকার দায়ভার তারা নিবে না বলে জানিয়ে দেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি ঘটনা মিমাংসার চেষ্টা করা হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহমুদু হাসান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কী হয়ে না হয়েছে আমি বলতে পারবো না। বড় স্যারের কাছে পাঠিয়েছি সে ব্যবস্থা নিবে।