মঠবাড়িয়ায় ইউএনওর সহায়তায় শ্রুতিলেখকে পরীক্ষা দিল সেই বিথী

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে বিথী আক্তার নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ডান হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আপন চাচা কর্তৃক ভেঙে দেয়া নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তারের বিশেষ হস্তক্ষেপে একজন শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধে জেরে বিথীর ওপর নৃশংস হামলা চালান তার আপন চাচা। এতে বিথীর ডান হাত গুরুতর জখম ও ভেঙে যায়। ডান হাতে লিখতে অক্ষম হয়ে পড়ায় বিথীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিথী তোফেল আকন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিথীর এই সংকটের কথা জানতে পেরে দ্রুত এগিয়ে আসেন মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা আক্তার।
তিনি বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জি এম শহিদুল ইসলামের কাছে বিশেষ আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তারকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি প্রদান করা হয়। অনুমতি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে অংশ নেয় বিথী। শারীরিক যন্ত্রণা থাকলেও পরীক্ষায় বসতে পেরে বিথী ও তার পরিবার প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, আমরা পরীক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছি। মেয়েটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সে যেন কোনোভাবেই তার শিক্ষাজীবন থেকে ঝড়ে না পড়ে, সেজন্য একজন শ্রুতলেখক বা ‘রাইটার’ প্রদানের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শেখ হিলাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এইচকেআর