নগরীর রূপাতলী পানি শোধনাগার চালু, বাড়বে পানি সরবরাহ

বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়েছে রূপাতলী ১৬ এমএলডি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, এই প্ল্যান্ট চালুর ফলে নগরবাসী বিশুদ্ধ পানি পাবে। একইসঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানি অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে বরিশাল শহর যেভাবে নিচে দেবে যাচ্ছে, তা থেকেও কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যাবে।” তিনি ডিপ টিউবওয়েল ও সাবমারসিবল পাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রূপাতলী সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি নগরীর অন্যতম প্রধান পানি সরবরাহ অবকাঠামো। প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ লিটার পানি পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে প্ল্যান্টটির। নদী ও খাল থেকে সংগৃহীত কাঁচা পানি আধুনিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে তা সুপেয় পানিতে রূপান্তর করা হয়।
প্ল্যান্টটিতে কয়েকটি ধাপে পানি শোধনের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রথমে কাঁচা পানি সংগ্রহ, এরপর কোয়াগুলেশন ও ফ্লকুলেশন প্রক্রিয়ায় ময়লা পৃথক করা হয়। পরে স্থিতিকরণ, ফিল্টারিং এবং জীবাণুনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উপযোগী করা হয়। সাম্প্রতিক আধুনিকায়নের ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও উন্নত হয়েছে।
দীর্ঘদিন যান্ত্রিক ত্রুটি, পুরোনো অবকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এতে নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগতে হয়েছে এবং অনেক এলাকায় বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
সম্প্রতি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্ল্যান্টটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, পাইপলাইন সংস্কার, ফিল্টার ইউনিট উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, বর্তমানে বিদ্যমান দুটি পানি শোধনাগার দিয়ে নগরবাসীর প্রায় অর্ধেক পানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে চাহিদা পূরণে আরও দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনের পর পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার আল আমিন বলেন, প্ল্যান্টটি চালু হওয়ায় নগরবাসী পানির দুর্ভোগ থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবে। তবে এখনো অনেক এলাকায় পানির লাইন পৌঁছেনি, ফলে সেখানে ডিপ টিউবওয়েলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকলে এই পানি শোধনাগার বরিশালের পানি সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এইচকেআর