বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অ্যাকশন, একজনকে ক্লোজড

বরিশালের বেশ কয়েকটি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ঢুকে টেকনিশিয়ান কাম টিকিট কালেক্টর জসীম মাতুব্বরকে দায়িত্বরত অবস্থায় না পেয়ে ক্লোজড করেন মন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মলয় কৃষ্ণ বড়াল। (১১ মে) সোমবার সকালে বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা লক্ষ্য ছিলো। মন্ত্রী বলেন, বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে একজন স্টাফকে অনুপস্থিত পেয়েছি, তিনি টিকিট কালেক্টর। ক্লোজড করেছি। ক্লোজড করতাম না, মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ায় করেছি।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে প্রথম অভিযোগ পেয়েছি আউটডোরের ডাক্তাররা দেরিতে আসে। আর দ্বিতীয়টা হলো ক্লিনিকগুলোর দালালরা। তারা ভুল বুঝিয়ে হাসপাতাল থেকে রোগীদের নিয়ে যায়। আমি দালালদের দেখা মাত্রই গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দিয়েছি। হাসপাতালের মধ্যে অনেক ময়লা আবর্জনা পেয়েছি, বাথরুমের অবস্থাও ভালো না। আউটডোরে ডাক্তার বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাম প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাম মোকাবেলায় একটি ভ্যাকসিনও আমাদের কাছে ছিলো না। সেই অবস্থায় আমাদের বেগ পেতে হয়েছে। এখন আমাদের স্টক রয়েছে। আল্লাহর কাছে অশেষ মেহেরবানি, যদি টিকা না পেতাম তাহলে চোখের পানি আর থামতো না।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নগরীর আমানতগঞ্জে শিশু হাসপাতাল ও বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে বরিশালের জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গর্ভের সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিল হাইকোর্ট
প্রথম সকাল ডেস্ক
ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা আর প্রকাশ করা যাবে না বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। (১১ মে) সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে আদালত বলেন, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্যকে উৎসাহিত করে, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়ায়, সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন। হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে এ বিষয়ে দীর্ঘদিন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা, ডিজিটাল নজরদারি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশের মতো অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।’’