ঢাকা সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুন, ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুন, ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন ও নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী বলেছেন, স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টায় রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন বলে সেখানে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত হয়েছেন।

আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেন শাহাগোলা ইউনিয়নের উদনপৈ গ্রামের মৃত ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের মো. লুৎফর (৩২), কলিমুদ্দিন (৩০), মোহন (জান্ডার) ও রুবেল; পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জলিল ও বিষা ইউনিয়নের আজাহারের ছেলে সাগর, মাধবপুর গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল ও দুবাই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (৩০) ও মৃত বাদলের ছেলে সুমন।


নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার নিহতরা হলেন খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়া গ্রামের গোলাম রাব্বানীর ছেলে শুভ, দীঘিরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে মো. শামিম হোসেন ও মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।

বাকি নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

তারা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়ে ওই সোফা কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রবাসের মাটিতে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া এসব মানুষের এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের মাতম।


রবিবার রাতে আত্রাইয়ের ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান নিহতদের খোঁজ নেওয়ার জন্য উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের যাচ্ছেন।

নিহতদের স্বজনদের বরাতে নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুলের ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নওগাঁ ও নাটোরের বিভিন্ন গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। পরিবারের একমাত্র বা প্রধান উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। যে স্বজনকে ঘিরে ছিল প্রবাস থেকে ফিরে আসার অপেক্ষা, সেই স্বজনের মরদেহ ফেরার খবরে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোক।

প্রবাসে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। অথচ সেই স্বপ্নের পথেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি যেন মুহূর্তেই নিঃস্ব করে দিয়েছে একেকটি পরিবারকে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আত্রাই উপজেলায় ১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, মৃত ১৬ জন ব্যক্তির সবাই বাংলাদেশি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মরদেহগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ এ ঘটনায় গভীর শোক জ্ঞাপন করছে। দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম পরিচয় শনাক্তকরণে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন