বরিশালে ব্রিজ আছে কিন্তু সংযোগ সড়ক নেই! দুর্ভোগে স্থানীয়রা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ও রত্নপুর ইউনিয়নের ধামুরা এলাকায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির সংযোগ সড়কের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।
সকাল ১১টায় এই মানব বন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মাণের পরও সংযোগ সড়ক না থাকায় এর সুফল পাচ্ছেন না তিন গ্রামের মানুষ। বর্তমানে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সেতুতে উঠতে একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে। সাঁকোটিতে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়াসহ দৈনন্দিন যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সংযোগ সড়কের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে সংযোগ সড়কের কাজ আটকে আছে।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের দাবি, এসএ রেকর্ড অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জমির মালিক তারা। তবে বিএস রেকর্ডে ওই জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তারা আদালতে মামলা করেছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের পরও সংযোগ সড়কের অভাবে সেটি কার্যত মানুষের কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলী সুজা জানান, এলজিইডি সাধারণত ব্রিজ নির্মাণের সময় এই বিষয়গুলো খেয়াল করা উচিত। তোরা ব্রিজ নির্মাণ করে দিচ্ছেন কিন্তু সংযোগ সড়ক কিভাবে হবে সেটা ভাবছেন না। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেক সময় ঠিকাদার ম্যানেজ করে থাকেন। কিন্তু সেটি সঠিক প্রক্রিয়া নয়। অধিগ্রহণ করে তারপরে ব্রিজ করা দরকার ছিল। ভালো করে যাচাই করে নিলে সমস্যা হতো না। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছে তাদের জমি এস এ রেকর্ড তাদের নামে। বি এসে কিভাবে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলো এটি একটি বিষয়। ক্ষতিগ্রস্ত মামলা করেছে। মামলার পরে এখন সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া উপায় নাই
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারি প্রকৌশলী শিবলু কর্মকার জানান, জমি সংক্রান্ত মামলায় বিএস রেকর্ড সঠিক থাকলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দেওয়া হবে। আর বিএস রেকর্ড সঠিক না থাকলে পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এইচকেআর