ঢাকা বুধবার, ১২ মে ২০২১

Motobad news

কলাপাড়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সদস্যদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

কলাপাড়ার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সদস্যদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সদস্যদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কলাপাড়ার তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মিথাইল অ্যালকোহল (উড স্প্রিট) ব্যবসায়ী। এসময় তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবীর অভিযোগ করেন। 

শনিবার বেলা ১১টায় নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো: সোহেল আহম্মেদ নামের ওই ব্যবসায়ী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, উপজেলা সদর বাজারে মেসার্স সোহেল এন্ড ব্রাদার্স’র পরিচালক মোঃ সোহেল আহম্মেদ ২০০৭ সাল থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লাইসেন্স নিয়ে মিথাইল অ্যালকোহল (উড স্প্রিট) ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ২০২০-২১ অর্থ বছরের লাইসেন্স গ্রহণের জন্য গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর লাইসেন্স নবায়নের টাকা জমার রশিদ ও লাইসেন্সের মূলকপিসহ পটুয়াখালী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের কাছে যান। পরে মিজানুর রহমান অসৎ উদ্দেশ্যে লাইসেন্স নবায়নে গড়িমসি ও তালবাহানা শুরু করেন।

এদিকে, পটুয়াখালীর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘খ’ সার্কেল কলাপাড়া চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় মো: সোহেল আহম্মেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় লাইসেন্স নবায়ন না হওয়ার কারণ দেখিয়ে অভিযান পরিচালনাকারী এসআই মো: মোস্তাফিজুর রহমান, এএসআই মো: রুহুল আমীন ও সিপাহী আবুল হাসান ১ লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবী করেন প্রতিষ্ঠান মালিকের কাছে। 

উৎকোচের টাকা না দেয়ায় তারা তাৎক্ষণিক সোহেল আহম্মেদকে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেখিয়ে দশমিনা থানার মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করেন। পরের দিন উপযুক্ত কাগজপত্রাদি দেখিয়ে দশমিনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন সোহেল। পরবর্তীতে কলাপাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসে কাগজপত্র আনতে গেলে পুনরায় টাকা দাবি করা হয় তার কাছে। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী সোহেল আহম্মেদ অবৈধভাবে অভিযান পরিচালনা এবং দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় গ্রেফতার করে সম্মানহানির ঘটনায় ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অভিযান পরিচালনাকারী এসআই ও মামলার বাদী মো: মোস্তাফিজুর রহমান উৎকোচ চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে এ সংবাদদাতাকে মুঠোফোনে জানান, মো: সোহেল আহম্মেদ’র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোন লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। তিনি কোন লাইসেন্স দেখাতেও পারেননি। কাগজপত্র ছাড়া আদালত কি ভাবে তাকে জামিন দিয়েছেন তা আমি জানিনা।  

অভিযোগের বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: মিজানুর রহমান মুঠোফোনে এ সংবাদদাতাকে জানান, মেসার্স সোহেল এন্ড ব্রাদার্স এর লাইসেন্স নবায়ন হয়নি। আদালত থেকে বেরিয়ে টাকা জমা দেয়া ও নবায়নের আবেদনের বিষয়টি আমাকে ফোনে জানিয়েছেন। অভিযান পরিচালনার সময় আমি ছিলাম না, টাকা পয়সা দাবীর বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। 
 


নিপুণ চন্দ্র / এমবি