ঢাকা রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ঈদের দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া, ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু বরিশাল সদর ‍উপজেল‍ার চরকাউয়ায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা  বরিশ‍াল নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় যুবক আহত অ্যাডভোকেট হলেন সাংবাদিক বেলাল বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
  • ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণের নতুন রেকর্ড, মৃত্যু ১৩

    নিয়ন্ত্রণহীন বরিশালের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি

    নিয়ন্ত্রণহীন বরিশালের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সরকারি কঠোর বিধি-নিষেধের (লকডাউন) পরেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের করোনা ভাইরাস। বরং আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। প্রায় প্রতিদিনই এই অঞ্চলে আক্রান্ত, মৃত্যু এবং শনাক্তের নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে।

    সবশেষ ২৪ ঘন্টায় বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় নতুন করে ৭১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা করোনার শুরু থেকে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ শনাক্ত। একই দিনে আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৩ জনের।

    এ নিয়ে বরিশাল বিভাগে মোট আটক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২২ হাজার ১০৯ জনে। আর ভাইরাসটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৪৯ জনের। তাছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে থেকে এ যাবৎকাল সুস্থতা লাভ করেছেন ১৫ হাজার ৭৬৪ জন। যা আক্রান্ত শনাক্তের তুলনায় অনেকাংশে কম বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

    বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বরিশাল এবং ভোলা জেলা বাদে বরিশাল বিভাগের বাকি চার জেলায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠিতে একজন করে এবং পিরোজপুর জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
    এছাড়া এখনো সংক্রমণের চূড়ায় রয়েছে বরিশাল জেলা। এ জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২১১ জন নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। যা নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৩৯৬ জনে। এ জেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ১৩৮ জন।

    এছাড়া পটুয়াখালী জেলায় নতুন ৫৭ জন নিয়ে মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮৪৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের। ভোলায় জেলায় নতুন ৩৫ জন নিয়ে মোট শনাক্ত দুই হাজার ২৫৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের।

    পিরোজপুর জেলায় নতুন করে ১৬০ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত তিন হাজার ১০৩ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন৫১ জন। বরগুনায় জেলায় নতুন ৫৭ জন সহ মোট শনাক্ত এক হাজার ৮৩৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। এছাড়া ঝালকাঠি জেলায় নতুন ১৯০ নিয়ে মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৭৪ জন এবং ভাইরাসটিতে জেলায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪২ জন।

    অপরদিকে, গত ২৪ ঘন্টায় বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আক্রান্ত কোন রোগীর মৃত্যুর খবর না থাকলেও উপসর্গ নিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির তথ্য সংরক্ষক মো. আবু জাকারিয়া খান।

    তিনি জানান, ‘রোববার সকাল ৮টা পূর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪৭ জন ও করোনা ওয়ার্ডে ৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে দুটি ওয়ার্ডে ওই সময় পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিল ২৯৮ জন। যার মধ্যে ৬৮ জনের করোনা পজিটিভ।

    জাকারিয়া জানান, ‘শুধুমাত্র হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডেই এ যাবৎকাল করোনা আক্রান্ত হয়ে ২২৯ জন এবং আইসোলেশন ওয়ার্ডে উপসর্গ নিয়ে ৫৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া ৩০ জনের কোভিড রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। তাছাড়া শেবামেক এর আরটি-পিসিআর ল্যাবে মোট ১৮৮ জন করোনা পরীক্ষা করা হলে ৬২ দশমিক ২৩ শতাংশ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

    দক্ষিণাঞ্চলে সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ.এম সাইফুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির মূল কারণ হলো মানুষের মাঝে এখনো সচেতনতার সৃষ্ট হয়নি। তারা মাস্ক পড়ার বিষয়ে উৎসাহি নন। আর স্বাস্থ্যবিধিও সঠিকভাবে পরিপালন করছে না। এটাই সংক্রমণ বৃদ্ধির মূল কারণ হতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনবলের সংকট থাকলেও চিকিৎসা সামগ্রী কিংবা অক্সিজেনের কোন সংকট আপাতত নেই। তার পরেও পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিলে পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্বের ৪৭০টির সাথে নতুন ৭০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা ঢাকায় পাঠিয়েছি। পাশাপাশি অক্সিজেন প্লান্টের ১০ হাজার লিটারের যে টাংকি আছে সেটাকে ২০ হাজারে উন্নিত করতে আবেদন জানিয়েছি। এছাড়া ১০ হাজার লিটার অক্সিজেন মজুদ রাখার জন্য আরেকটি টাংকির কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

    অপরদিকে, বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানিয়েছেন, ‘আপাতত আমাদের কোন সংকট নেই। তবে মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তারা অকারণেই বাইরে বের হচ্ছে, ঘোরাফেরা করছে। মানুষের মাঝে যতক্ষণে সচেতনতাবোধ না ফিরবে ততক্ষণে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাটা মুশকিল হবে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি।
     


    এমবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ