মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র প্রচেষ্টায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পেলো শেবাচিম কর্তৃপক্ষ

বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে অক্সিজেনের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনার রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি সংকট মোকাবেলায় এ হাসপাতালে ৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করেছে ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাজীবী সংগঠন আই.ই.বি, ম্যাক্স গ্রুপের সহায়তায়। বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র প্রচেষ্টায় পাওয়া অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলো সোমবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে বিকাল ৪টায় জুম অ্যাপে ভার্চুয়ালী সিলিন্ডার হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
এসময় তিনি বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমাদের বরিশালে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। তাছাড়া ঈদ পরবর্তী পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে আমাদের উচিৎ সরকারের সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। শারীরিক দূরত্বের পাশাপাশি মাস্ক পরাকে অভ্যেসে পরিনত করতে হবে।
মেয়র বলেন, ‘যার যার অবস্থান থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সতর্ক হওয়া উচিৎ। অন্তত্য নিজের জন্য, নিজের মা-বাবার জন্য, পরিবারের সুরক্ষা এবং সুস্থ রাখতে হলেও মাত্র কয়েক দিনের লকডাউনে ঘরে থাকুন। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হবেন না।
এসময় শেবাচিম হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দেয়া আই.ই.বি’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও বাকেরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জু’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, করোনা মহামারির মধ্যে আমি সর্বদাই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।
করোনা রোগীদের স্বার্থে শেবাচিম বা সদর হাসপাতালের যেকোন প্রয়োজনে সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। লকডাউন শুরুর পরে আমিই সবার আগে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। যেটা এখনো চলমান রয়েছে। করোনা সংকট যতদিন থাকবে আমি ততদিন দুর্গত মানুষ এবং শেবাচিম হাসপাতালের পাশে থেকে সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করে যাবো।
অনুষ্ঠানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু শত চেষ্টার পরেও শহরের মধ্যে যেসব বাজার রয়েছে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সকল চেষ্টাই বৃথা হবে। তাই অনুরাধ করছি অন্তত বাজার কমিটিতে যারা আছেন তারা ভলান্টিয়ার নিয়োগ করে বাজারগুলোতে শারীরিক দূরত্ব এবং মাস্ক পরার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিন। এতে অন্তত সংক্রমণ কমার পাশাপাশি অক্সিজেনের চাহিদাটা কিছু হলেও কমবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদিকুল আরেফিন, বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহমেদ, আই.ই.বি’র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মঞ্জু, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন, শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচ.এম সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন বরিশালের সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মুরাদ আহমেদ, সুশান্ত ঘোষ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
পরে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র কার্যালয়ে উপস্থিত শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক ডা. এইচ.এম সাইফুল ইসলাম এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার তুলে দেন মেয়র।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ.এম সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র পক্ষ থেকে প্রকৌশলী মঞ্জু ৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়েছেন। এর মধ্যে ১০ লিটারের ২০টি এবং ৪০ লিটারের ৩০টি সিলিন্ডার রয়েছে।
এমবি