‘আমার কারণে আওয়ামী লীগের ক্ষতি হবে, সেটি আমি কখনোই চাইবো না’

সেদিন করলে অনেক কিছুই হতো। কিন্তু কার বিরুদ্ধে করবো? এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেছেন, আওয়ামী লীগ আছে, আমি সাদিক আব্দুল্লাহ আছি। আওয়ামী লীগ না থাকলে আমি সাদিক আব্দুল্লাহর কোন মূল্য নেই। আমার কারণে আওয়ামী লীগের ক্ষতি হবে, সেটি আমি কখনোই চাইবো না। যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলো যদি আমার কারণে হয়ে থাকে তাহলে পদ-পদবি ছেড়ে আমি চলে যাবো।
আমি বলবো, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দরকার। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের চাহিদা বেশি না, ওইদিনের ঘটনার পুরো ভিডিও আমরা দেখতে চাই। সেখানে যদি আমি বা আমার দলের নেতাকর্মীরা অপরাধী হয়ে থাকে তাহলে আমার বিচার অবশ্যই করবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় নগরীর কালীবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি।
মেয়র বলেন, আপনারা জেনেছেন, ঘটনা যে ওয়ার্ডে সেই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। যুবলীগের এক নেতার চোখ নষ্ট হয়েছে। সুতরাং দেশ, জনগণ এবং বরিশালের মানুষের স্বার্থে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।
পুরো ঘটনা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আমার সিটি কর্পোরেশনে বরাদ্দ নেই। তারপরও কিন্তু উন্নয়ন থেমে নেই। মানুষের আশা আমার কাছে। সেই আশা যেন ভেঙে দেওয়া যায় সেজন্য ষড়যন্ত্র চলছিল। এক বছর আগেও আমি আপনাদের এই ষড়যন্ত্রের কথা বলেছিলাম। এমনটাতো হওয়ারই কথা ছিল। বিগত দশ বছরে আমি প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতি বরিশালে আমি করেছি কিনা সেটি আপনারা দেখেছেন। আমি যদি অন্যায় করে থাকি অবশ্যই তার বিচার হওয়া দরকার।
সাধারণ জনগণ যেন দুর্ভোগের শিকার না হয় অনুরোধ করে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, বিগত দিনে দেখেছি সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মেয়রদের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়ান। কিন্তু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আমার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন। আমি বরিশালের জনগণের মন জয় করতে পেরেছি কিনা জানি না, তবে করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মন জয় করতে পেরছি এই জন্য আল্লাহর কাছে আমার শুকরিয়া। পরিচ্ছন্নকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমি বলবো, বরিশালের জনগণ কোন অপরাধ করেনি। আবর্জনা পরিষ্কার যদি না হয় তাহলে আমাদের জনগণের কষ্ট হবে। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
একইসাথে প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ পরিচ্ছন্নকর্মীদের বাসায় গিয়ে খোঁজাখুঁজি করবেন না। অন্তত সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ বাধাগ্রস্ত করবেন না। এভাবে করলে আমাদের নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ভয়ে বাসার বাইরে থাকছেন। এদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনারা বাসায় ফিরে আসুন এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজে যোগ দিন। নগরবাসীর যেন দুর্ভোগ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ব্যানার সরানো বা টানানো সেটিতো আমার এখতিয়ার। ওই ব্যানার আমার দলের। সুতরাং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তো কিছু না। গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রশ্নে সাদিক বলেন, যখন উপর থেকে নির্দেশ আসবে তখন আমার বাসায় অভিযান চালাতে হবে না। আমাকে বললেই নিজেই থানায় গিয়ে বসে থাকবো। আমাকে দেশবাসী চেনে। আমিতো পালিয়ে যাবো না।
সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, সত্য দাবিয়ে রাখতে পারবেন না। সত্য উদঘাটিত হবেই। আমি আগেও বলেছি, আমি যদি অন্যায় করে থাকি তাহলে এই চেয়ারে থাকার কোন অধিকার নেই। দলে এবং মেয়র পদে থাকার অধিকার তাহলে আমার নেই। এই শহরের প্রতিটি জনগণের দায়-দায়িত্ব আমার কাঁধে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস, গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন্নাহার মেরীসহ জেলার সকল পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানবৃন্দ।
এর আগে বুধবার (১৮ আগস্ট) রাত তিনটায় সর্বশেষ গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছিলেন বিসিসি মেয়র। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার রাতের ঘটনায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান ও কোতয়ালী পুলিশের এসআই শাহজালাল মল্লিক বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬০২ জনকে আসামী করা হয়। উভয় মামলার ১ নম্বর আসামি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। মামলায় এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাস মালিক সমিতির সভাপতি, শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এমবি