পটুয়াখালীতে উপকূলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘিরে চলছে বাণিজ্য

বন সংরক্ষক ও বন কর্মকর্তার যোগসাজশে পটুয়াখালী উপকূলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘিরে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে জেলে ও পশুপালনকারীরা। সরকারের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রবাহমান খালে দেয়া হচ্ছে বাঁধ।
অনিয়মই যেন নিয়ম হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চর হায়দর, লাল চর ও আগলা চরের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। এই তিনটি চোরের আয়তন ২২৯৫ একর।
অর্থ এবং বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব বনাঞ্চল ব্যাবহারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বনখেঁকোরা। অভিযোগ রয়েছে দশমিনা বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং চর হায়দরের বিট অফিসার রওশন হাসানের কাছ থেকে মৌখিকভাবে টাকা দিয়ে নেছার রাড়িসহ কয়েকজন দশমিনার এই বনগুলো অবৈধভাবে লিজ নেন। তারা বনের গাছ ও মাটি কেঁটে উন্মুক্ত বনাঞ্চলের ভেতরে থাকা খালে শতাধিক বাঁধ-এ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরার জন্য জেলেদের কাছ থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। টাকা না দিলে মিলছে না খালে মাছ ধরার সুযোগ, ফলে মাছ শিকার না করতে পেরে পেশা হারাচ্ছেন অসংখ্য জেলে।
এছাড়া এই বনাঞ্চলে মহিষ চড়ানোর জন্যও নেয়া হচ্ছে ২ হাজার টাকা করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পশু পালনকারীরাও। এর প্রতিবাদ করতে গেলে হামলা-মামলাসহ নানা হয়রানির শিকার হচ্ছে জেলে পশু পালনকারীসহ সাধারণ মানুষ। এসব বনখেকোদের আগ্রাসন দূর করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ধরনা দিলেও মিলছে না প্রতিকার।
বিষয়টি নিয়ে দশমিনা উপজেলার রেঞ্জ অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাউকে বনাঞ্চল লিজ দেয়া হয়নি। কেউ কেউ দলীয় প্রভাব বিস্তার করে থাকতে পারে। তবে যারা গাছ কেটেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ায় এমন অভিযোগ করছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, বনের মধ্যে চাইসহ অন্যান্য অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরা মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর।
উপকূলীয় বন বিভাগের সহককরি বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোসা. নুরুন্নাহার বলেন, সংরক্ষিত বনভূমি লিজ দেয়া সম্ভব নয়। খালগুলো দ্রুত অবমুক্ত করাসহ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পটুয়াখালী জেলার মোট ভূমির প্রায় ২% বনাঞ্চল। জেলার মোট আয়তন ৩,২২১.৩১ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে সরকারি বনাঞ্চল রয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বর্গকিলোমিটার বা তারও কম। এর বেশিরভাগই সমুদ্র তীরবর্তী সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বা শ্বাসমূলীয় বন।
এইচকেআর