ববির ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী থাকেন হলের বাহিরে

মারিয়াম আক্তার, ববি ॥
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও আবাসন সংকট কাটেনি। প্রায় ৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনও হলের বাহিরে ভাড়া বাসা ও মেসে থেকে পড়াশোনা করছেন।
ফলে এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অনিরাপদ পরিবেশে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতির কারণে এ সংকট সহসাই কাটছে না।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, কীর্তনখোলা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে নির্মিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রদের জন্য শেরেবাংলা ও বিজয়-২৪ এবং ছাত্রীদের জন্য সুফিয়া কামাল ও রাবেয়া বসরী নামে চারটি আবাসিক হল রয়েছে। প্রতিটি হলে সর্বোচ্চ ৪৫০ জন করে মোট প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী থাকার সুযোগ পান। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এমনকি অনেক কক্ষে একটি সিটে দুইজন শিক্ষার্থীও অবস্থান করছেন।
হলের বাহিরে থাকা আইন বিভাগের শিক্ষার্থী অয়েস কুরুনী বলেন, ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় উচ্চ ভাড়ায় বাসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালাদের অসহযোগিতা ও নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছেন। যাদের আর্থিক সামর্থ্য কম, তারা ক্যাম্পাস থেকে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে তুলনামূলক কম ভাড়ার বাসায় থাকছেন বলেও অভিযোগ তার। এতে প্রতিদিন যাতায়াতে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে। যার প্রভাব পরছে শিক্ষাজীবনেও।
একাধিক শিক্ষার্থী বলছেন, বাড়তি খরচ সামলাতে অনেককে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট টিউশনি করতে হচ্ছে। ফলে লেখাপড়ায় প্রয়োজনীয় সময় দিতে না পারায় শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কাক্সিক্ষত শিক্ষার পরিবেশ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে আবাসন সংকট নিরসনে দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও পরিকল্পনা পর্যায়েই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য ২০২৫ সালের ১০ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা অনুমোদন দেয়।
পরে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে ফিজিবিলিটি স্টাডি ও মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কার্যক্রম চলছে। এরপর কনসালট্যান্ট নিয়োগ, ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৌশল পরীক্ষা, বুয়েটের অনুমোদন এবং নকশা প্রণয়নসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব প্রক্রিয়া শেষ করে প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হতে আরও অন্তত ৫ থেকে ৭ বছর সময় লাগতে পারে। ফলে স্বল্প সময়ে নতুন আবাসিক হল নির্মাণের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
ববির পিডি সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, উন্নয়নকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যক্রম চলছে। উন্নয়নকাজ করতে ১৮টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। তাদের মধ্য থেকে যোগ্যদের আলাদা সংক্ষিপ্ত তালিকায় ৭টি প্রতিষ্ঠান টিকে আছে। এদের মধ্যে নিয়ম অনুসরণ কম টাকায় ভালমানের কাজ করতে পারে এমন প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে। সেই প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়ন কাজের ফিজিবিলিটি স্টাডি, মাস্টার প্লানসহ পুরো কর্মযজ্ঞ জুড়ে থাকবে।
এ কার্যক্রম শেষ হতে ৫-৭ বছর সময় দরকার হতে পারে। তবে একটি ছোট প্রজেক্টের আওতায় একাডেমিক ভবন ৩ নির্মাণ কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। তবে আবাসিক হলের সংকট কাটতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
ববি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সামনের দিকে প্রকল্প যদি নিয়ে আসতে পারি তাহলে আবাসন সংকট সমাধান হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম ছয় মাসের মধ্যে কাজ শুরুর লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম এগোতে সময় লাগছে। এ অবস্থায় আবাসন সংকটে ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।
এইচকেআর