ভোরের সংবাদ বাহকের মুখে হাসি ফুটালো মানবিক সাজ্জাদ পারভেজ

প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই শহরের অলিগলি পেরিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় সংবাদ পৌঁছে দেন তিনি। হাতে পত্রিকার বোঝা,এক আকাশ সমান স্বপ্ন আর ভরসা একটি পুরোনো মোটরসাইকেল।
প্রতিদিনই সেই মোটরসাইকেলের বিকল হওয়া, অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ও যান্ত্রিক ঝামেলা তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছিল। তবুও সংসারের দায়িত্বের কাছে থেমে যাওয়ার সুযোগ ছিল না।
একদিন কথার ফাঁকে বললেন পুরোনো মোটরসাইকেলের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে তিনি একটি নতুন সাইকেল কিনতে চান। নিজের সঞ্চয়ে জমানো ছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। কিন্তু আরও ৬ হাজার টাকার অভাবে সেই ইচ্ছেটুকুও বাস্তবে রূপ নিচ্ছিল না। অথচ তাঁর সংসারে রয়েছে অনার্সে অধ্যয়নরত স্ত্রী এবং স্কুলপড়ুয়া দুই ছেলে। সীমিত আয়ের এই মানুষটির জন্য অতিরিক্ত অর্থ জোগাড় করা ছিল প্রায় অসম্ভব।
এই অসহায় বাস্তবতার কথা শুনে এগিয়ে আসেন বরিশাল আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধ্যক্ষ এবং ৪৮ ইভেন্ট গ্রুপ বরিশালের অন্যতম উদ্যোক্তা সাজ্জাদ পারভেজ। মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব মনে করা এই কর্মকর্তা পত্রিকা হকারের প্রয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তাঁকে একটি দূরন্ত বাইসাইকেল কিনে দেন।
সাইকেলটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ওই পত্রিকা হকার। তাঁর বিশ্বাস, নতুন এই বাহন শুধু কর্মজীবনকে সহজই করবে না, বরং প্রতিদিনের অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে সংসারের জন্যও কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে। মানবিক এই উদ্যোগের কথা জানিয়ে সাজ্জাদ পারভেজ নিজ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, প্রতিদিন ভোরে আমাদের বাসায় পত্রিকা পৌঁছে দিতে আসেন এক পত্রিকা হকার।
তাঁর প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে একটি দূরন্ত সাইকেল কিনে দিতে পেরে ভালো লাগছে। আশা করি, সাইকেলটি তাঁর কর্মজীবনকে আরও সহজ করবে। বরিশাল অঞ্চলে আর্ত-মানবতার সেবায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন সাজ্জাদ পারভেজ।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তিনি অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও কর্মজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চলেছেন। তাঁর এমন উদ্যোগ প্রমাণ করে মানবিকতা কখনো বড় আয়োজনের বিষয় নয়, একজন মানুষের প্রয়োজনকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করে সময়মতো পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবসেবা।
এইচকেআর