বিয়ের দিন সমাজসেবা পরিবারই লামিয়ার আপনজন

বিয়ের সাজে লামিয়া। সামনে নতুন জীবনের হাতছানি। চারপাশে হাসি-আনন্দ, অতিথিদের ব্যস্ততা আর বিয়ের আয়োজন। শুধু নেই বাবা-মা। দুই লাখ টাকা কাবিন। বর সেলিম গাজী—পেশায় অটোচালক। অতিথিদের ভিড়, খাবারের গন্ধ, সাজসজ্জা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর এই বিয়েতে শূন্যতা বলতে ছিল —কনের পাশে বাবা-মা নেই।
পিতা-মাতা হারা লামিয়া আক্তারের জীবনে আপন বলতে কেউ নেই। তবু বিয়ের দিন তাকে আপনজনহীন থাকতে হয়নি। বরিশালের সুরক্ষা বঞ্চিত মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটিই হয়ে উঠলো তার পরিবার।
জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার মুহূর্তে লামিয়ার পাশে দাঁড়ান সমাজসেবা পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের মেয়ের বিয়ের মতো করেই সাজানো হয় আয়োজন। ছিল অতিথিদের আনাগোনা আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। আপ্যায়নে ছিল পোলাও, রোস্ট, গরুর মাংস, সবজি, মুগডাল, মিষ্টি ও কোমল পানীয়।
লামিয়ার বিয়েতে উপস্থিত থেকে নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন খন্দকার, পুলিশ সুপার এ. জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক শাহ মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ইকবাল কবির, বরিশাল আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজসহ অতিথিরা।
একসময় যে মেয়েটির জীবনে পিতা-মাতার ছায়া হারিয়ে গিয়েছিল, তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটিতে পাশে ছিল এই প্রতিষ্ঠান। দায়িত্বের গন্ডি পেরিয়ে এই সম্পর্ক হয়ে উঠেছিল আপনজনের মতো। সুরক্ষা বঞ্চিত মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়—লামিয়ার মতো মেয়েদের জন্য এটি নিজ আপন ঠিকানা।
এইচকেআর