বাকেরগঞ্জে যুবকের ওপর হামলা, আট দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে রাইয়ান শেখ নামের এক যুবকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রিফাত তালুকদার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রিফাতসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে ঘটনার দিনেই থানায় মামলার আবেদন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
কিন্তু রহস্যজনক কারণে ঘটনার আট দিনেও অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি থানা পুলিশ। বরং তদন্তের দোহাই দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন তাঁরা। পুলিশের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় বাদী এবং ভিকটিম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। অভিযোগ রয়েছে— থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর রিফাত ও তার সহযোগী স্থানীয় তৈয়ব আলী হাওলাদারের ছেলে নাঈম হাওলাদার যুবকসহ তার স্বজনদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।
যদিও অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা নাজমুল মোল্লার দাবি— বাদীপক্ষই তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে না। আর বাদীপক্ষ তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের পক্ষাবলম্বন করার অভিযোগ তুলেছে।
থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাইয়ান তাঁর নানা বাড়ি থেকে শ্যামপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় সে মোবাইল ফোনে কারোর সাথে কথা বলছিল।
পথিমধ্যে রিফাত তালুকদার ও নাঈমসহ কয়েকজন সহযোগী তার পথরোধ করে। তারা রাইয়ান ‘কার সাথে মুঠোফোনে কথা বলছে’ তা দেখতে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। মোবাইল না দেওয়ায় রাইয়ানকে মারধর করে রিফাত তালুকদার ও সহযোগীরা।
রাইয়ান ও তাঁর পরিবারের দাবি, রাইয়ানের মা জান্নাত ফেরদৌসী জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে প্রবাসে থাকেন। এ কারণে ছোটবেলা থেকেই নানার বাড়িতে থাকা হয় রাইয়ানের। রিফাতের বাড়ি ও রাইয়ানের নানা বাড়ি একই এলাকায়। সেই সুযোগে রিফাত প্রায়ই রাইয়ানের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন এবং তা ফেরত দিতেন না। বরং টাকা চাওয়ায় ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার তাকে মারধর করেছে। এ বিষয়ে রিফাতের পরিবারকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
সবশেষ ঘটনার দুই দিন আগে রিফাত আবারও রাইয়ানের কাছে টাকা ধার চায়। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয় রিফাত। এর জের ধরে ৭ সেপ্টেম্বর মোবাইলে কথা বলার অজুহাত তুলে রাইয়ানের পথরোধ করে বেদম মারধর করে রিফাত ও তার সহযোগী। তাই বাধ্য হয়ে ঘটনার দিনেই বিচার পেতে থানায় মামলার আবেদন করেন রাইয়ানের নানি সীমা বেগম।
রাইয়ানের স্বজনরা অভিযোগ করেন, থানা পুলিশ তাদের মামলা গ্রহণ করেনি। অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে থানা থেকে জানানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনার নয় দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তাদের তদন্ত শেষ হয়নি। বরং তদন্তের নামে ছেলেকে থানায় ডেকে নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পুলিশের এমন আচরণে আইনি সহায়তা চাইতে গিয়ে এখন উল্টো অভিযুক্তদের হুমকির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ বাদী ও ভুক্তভোগীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত রিফাত তালুকদার উপজেলার বিরাঙ্গল এলাকার বাবুল তালুকদারের ছেলে। তার সহযোগী নাঈম একই এলাকার তৈয়ব হাওলাদারের ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
তবে অভিযোগ স্বীকার করে রিফাত তালুকদার জানান, প্রতিবেশী এক মেয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। রাইয়ান ওই মেয়ের সঙ্গে প্রায়ই দেখা করে এবং ফোনে কথা বলে। বিষয়টি নিয়ে রাইয়ানকে নিষেধ করা হলেও সে কথা বলা অব্যাহত রাখে। এ কারণে তাঁকে দুটি থাপ্পড় দিয়েছি।
এদিকে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক নাজমুল মোল্লা বলেন, ভুক্তভোগী রাইয়ান শেখকে যে মারধর করা হয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থাপপত্র বা মেডিকেল সনদ চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা সেটা দেয়নি— এমনকি পরবর্তীতে আর আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।
এ প্রসঙ্গে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর সীমা বেগম নামে একজন একটি এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে তার সঠিক উত্তর মেলেনি থানা পুলিশের এই কর্মকর্তার কাছ থেকে।
এইচকেআর