ঢাকা বুধবার, ২৫ মে ২০২২

Motobad news

বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সংকট মোকাবেলা করেই ক্লান্ত!

বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সংকট মোকাবেলা করেই ক্লান্ত!


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও যানবাহন সংকট চলছে। ১৯ জন কর্মকর্তা কর্মচারি নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এই কার্যালয়টি। জনবল ও যানবাহন সংকটের কারণে মাদক উদ্ধার ও মাদকসেবীদের গ্রেপ্তারে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

তবে জনবল ও যানবাহন সংকটের মধ্যে দিয়েই গত এক বছরে এ সংস্থাটি মোবাইকোর্ট মিলে ১৫শ’ ৩৪টি অভিযান পরিচালনা করেছেন। এ সময়ে মধ্যে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক জব্দ করা হয়। আসামি করা হয় ২৪৯ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা কার্যালয়ে ১১টি পদের মধ্যে সহকারি পরিচালক ১ জন, পরিদর্শক ১ জন, উপ পরিদর্শক ২ জন, সহকারি উপ পরিদর্শক ৪ জন, সিপাই ৭ জন, প্রসিকিউটর ১ জন, অফিস সহকারি ১ জন, একাউন্টেন ১ জন, ওয়্যারলেস অপারেটর ১ কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া উপ-পরিচালক পদ শূন্য, উপ পরিদর্শক ১ জন, উপপরিদর্শক (এসআই) পদে একজন, সিপাই ৭ জন,  সহ কারি প্রসিকিউটর ১ জনের পদগুলো শূন্য রয়েছে। জেলা কার্যালয়ে ১টি গাড়ি রয়েছে। কর্মরত একজন ইন্সেপেক্টর, ২ জন এসআই, এ এসআই এবং ৭ সিপাই পক্ষে জেলার ৬ উপজেলার মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। দীর্ঘ বছর ধরে ওই সব পদে শুন্য থাকায় অনেক সময় অভিযানে ব্যাঘাত হচ্ছে। গোয়েন্দা বিভাগের নিজস্ব যানবাহন না থাকার কারণে সময়মতো অভিযানে মুভ করতে পারছে না। 

এদিকে এ অবস্থায় জেলায় ১৫শ’ ৩৪টি অভিযান পরিচালনা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যার মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় ১৮৩টি। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মাদক থাকার অভিযোগে ২৪৯  জন মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। যার মধ্যে নিয়মিত মামলার সংখ্যা রয়েছে ৫৮টি। 

২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত  এ অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি । এর মধ্যে ইয়াবা ১০ হাজার ২০৯ পিস, ফেনসিডিল ১৩৫ বোতল, গাঁজা ৩২ কেজি ৪ হাজার ২৪৫ গ্রাম, বিয়ার ২৪ ক্যান,  চোলাই ও বিদেশীমদ ১৫ লিটার, ডি এস ৬০ লিটার, ১৬টি গাঁজা গাছ সহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করেন। এছাড়া মাদক বিক্রির ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। 

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (গোয়েন্দা কার্যালয়) এর সহকারী পরিচালক মো.এনায়েত হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে গোয়েন্দা বিভাগের কোন যানবাহন নেই। রয়েছে একটি গাড়ি। যার কারণে অনেক সময় অভিযানে ব্যহৃত হচ্ছে। সেই সাথে রয়েছে জনবলের সংকট। জনবল ও যানবাহন সংকট দুর হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও আরো গতিশীল হবে বলে তিনি মনে করে। বিষয়টি সংস্থার উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এ বিষয়ে খুব শিগগির পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশাবাদী। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী বলেন, জেলায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু জনবল কম থাকায় মাদকের বিরুদ্ধে ঠিকমতো অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। গাড়ি ভাড়া করে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ কারণে প্রতি মাসে দুই থেকে তিনটি মামলা হচ্ছে। জনবল বাড়ানো গেলে অভিযান বৃদ্ধি পাবে। এতে মাদক অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। 

জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে শিগগিরই জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তখন শূন্য পদ পূরণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।
 


এসএম