ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • শিক্ষামন্ত্রীকে না সরালে পরের দাবি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বরিশাল নগরীর বিসিক শিল্প এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার বানারীপাড়ায় নবীকে কটূক্তির অভিযোগে যুবককে জুতার মালা গৌরনদীতে সকালে ঢালাই বিকেলে ভেঙে পড়েছে  অর্ধকোটি টাকার গার্ডার ব্রিজ দু-এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিইসি ও স্পিকারকে জামায়াতের চিঠি গৌরনদীতে শিক্ষার্থীর টিফিনের রুটিতে মিলল ব্লেড ব্রাজিলভক্ত ১৭ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালেন আর্জেন্টিনাভক্ত শিক্ষক এবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত বিএম কলেজে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শিক্ষকের, তদন্ত কমিটি গঠন
  • ছেলে হত্যার শোকে মায়ের মৃত্যু

    ছেলে হত্যার শোকে মায়ের মৃত্যু
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    নরসিংদীর ঘোড়াশালে পুত্র হত্যার শোকে মায়ের মৃত্যুর ঘঠনা ঘটেছে। ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যাকান্ডের শিকার মাইনুল মীর নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ফেলু মীরের ছেলে। গত ফেব্রুয়ারি ৬ তারিখে ভালোবেসে শ্রাবন্তী আক্তার (২০) নামে এক তরুনীকে বিয়ে করেন মাইনুল। বিয়ের ছয় দিনপর মাইনুল মীরকে হত্যা করে সাবেক প্রেমিকা ইসরাত জাহান মীম (২০) নামে আরেক তরুনী।

    ছেলে হত্যার পর থেকেই মাইনুল মীরের শোকে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে কাতর হয়ে পড়েন মা। তারই জেড়ে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাইনুল মীরের ষাটোর্ধ্ব মা নুরজাহান বেগমের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের মেজো ছেলে জহিরুল।

    জহিরুল আরো বলেন, মায়ের মৃত্যুর আগের আর্তনাদ গুলো কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ছোট ভাইকে হত্যার পর থেকে ‘মা’ মানসিক ও শারীরিক ভাবে ভেঙে পড়েন। প্রতিদিন একটাই আর্তনাদ ছিলো ছোট ভাইয়ের খুনির বিচার কবে হবে। এ শোকে অবশেষে আমাদের মা জননীও চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মা-বাবাকে হারিয়ে আমরা সবাই এতিম হয়ে গেলাম।

    শুক্রবার বা’দ জুম্মা ঘোড়াশাল বাজার  ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে মরহুমা নুরজাহান বেগমের দাফন সম্পন্ন করা হয়। মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন ও মাইনুল মীর হত্যার দ্রুত বিচার কার্যের দাবী জানান তার স্বজনরা।

    মাইনুল হত্যা মামলার সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিহত মাইনুল হক মীর ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় একটি দাঁতের চিকিৎসালয়ে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রেমিকা ইশরাত জাহান মীম উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামের ইমরান হোসেনের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মেডিকেল সহকারি হিসেবে কাজ করেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলমান অবস্থায় গত বছরের মাঝামাঝিতে মীম আরেক ছেলেকে বিয়ে করে ফেলেন। তিন মাস পর সেই বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর আবার মাইনুলের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক জোড়া লাগে মীমের। কিন্তু এরই মাঝে শ্রাবন্তীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন মাইনুল। গোপনে একই সঙ্গে শ্রাবন্তীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চালাতে থাকেন মাইনুল।

    সম্প্রতি ৬ ফেব্রুয়ারি দুজনের পরিবার রাজি না থাকায় গোপনে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ এর মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে লিপ্ত হন তাঁরা। পরে মাইনুলের বিয়ে করার কথা জানতে পেরে এর ছয়দিন পর কৌশলে মাইনুলকে তাঁর কর্মস্থলে ডেকে নিয়ে যায় তার সাবেক প্রেমিকা মীম। ঘোরাশাল পৌর শহরে দাঁতের চিকিৎসালয়ের কক্ষে মাইনুলের ঘাড়ে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করেন মীম। দু-তিন মিনিটের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন মাইনুল। এরপর ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে মাইনুলের মৃত্যু নিশ্চিত করে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান মীম।

    এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাইদুর মীর বাদী হয়ে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় একমাত্র আসামি ইসরাত জাহান মীমকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদীর আদালতে প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ আদালত মিমকে কারাগারে প্রেরণ করেন। বর্তমানে মাইনুল হত্যা বিচার চলমান বলে জানান পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ।


    এমইউআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ