ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

Motobad news

গ্রাহকের ৩ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ইটভাটার মালিক!

গ্রাহকের ৩ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ইটভাটার মালিক!

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় কম মূল্যে ইট দেয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন এক ইটভাটার মালিক। এমন অভিযোগ করে ওই ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়া থানায় গত ৫ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভূক্তভোগীরা। অভিযুক্ত ইটভাটার মালিক জসিম খান  উপজেলার ১নম্বর ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের মো. সালাম খানের ছেলে। 

লিখিত অভিযাগ ও সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, জসিম ভাণ্ডারিয়া-চরখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন নদমুলা ইউনিয়নের কচাঁ নদীর তীরে রুমী এন্টার প্রাইজ নামের একটি ইটভাটা ৬০লাখ টাকায় ভাড়া নিয়ে নিজে পরিচালনা শুর করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী কচাঁ তীরবতী জোলাগাতি নামক স্থানে খান ব্রিকস নামে অপর একটি ইটভাটা গড়ে তুলেন। 

এ ব্যবসার সুবাদে জসিম খান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগমের কাছ থেকে ইট বাবদ ৭২ হাজার ৪লাখ ৩২হাজার টাকা, সুমন হাওলাদারের কাছ থেকে ৩৭হাজার ২লাখ ২২হাজার টাকা, মোসাম্মৎ নাজিনা বেগমের কাছ থেকে ১২হাজার ৭২হাজার টাকা, আলতাফ মীরের কাছ থেকে ২৫হাজার ১লাখ ৫০হাজার টাকা, মো.মনির হাওলাদার এর কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা, মামুনের কাছ থেকে ২লাখ ১০ হাজার টাকা নেয় । এসকল ভুক্তোভোগিদের ইট না দিয়ে তাদের টাকা আতœস্যাৎ করে । 

শুধু তাদেরই নয়,   প্রায় শতাধীক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে জসিম খান। এসকল ভূক্তভোগীদের কাছে জানতে চাইলে তারা ইট কেনার রষিদ দেখিয়ে বলেন, যে সময়ে ইট দেয়ার কথা ছিল তখন ইট না দিয়ে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তার ব্যবহৃত(জসিমের) সেলফোন বাজলেও রিসিভ করেন না। 

ক্যাষম্যামোতে দেয়া নম্বরে বার বার ফোন দেয়ার পরে কখনো সে (জসিম) কখোনো তার ভাই অসিম খান, উজ্জল খান পৃথক ভাবে ফোন রিসিভ করে জানান, এই তো আপনাদের ইট দেয়া হবে হচ্ছে। এদিকে এক সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কতিথ ইটভাটার মালিক জসিম খান লোকাল বালু দিয়ে তার ব্যবসা শুর” হয়। সে সুবাদে ধিরে ধিরে কিছু প্রভাবশালী মানুষের সাথে পরিচয়ের সুবাদে সে বালুর পাশা পাশি ইটের ব্যবসা এবং চোরাই মাল কেনার পরে বনে যান বড় ব্যবাসায়ী বলে জানান স্থানীয়রা এবং এক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি । 

জানা গেছে, ২বছর পূর্বে ভাণ্ডারিয়া-চরখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক নদমুলা ইউনিয়নের কচাঁ নদীর তীরে রুমী এন্টার প্রাইজ নামের যে  ইটভাটা ভাড়া নিয়ে জসিম পরিচালনা করেন। সেই ইট ভাটায় গেলে সেখানে ওই পরিমান ইটের এক ভাগ ইটও দেখা যায়নি। এছাড়া কচাঁ তীরবতী জোলাগাতি নামক স্থানে খান ব্রিকস নামের অপর ইটভাটা 

গড়ে তুলেছেন সেটি ভাঙন কবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তার উপর অবৈধ ভাবে নদীর পাড়  কেটে সে মাটি ব্যবহার করা হয় ওই ইটভাটায়। ওই এলাকার একাধিক যুবক জানান, আমাদের ক্রিকেট খেলার মাঠ দখল করে অবৈধ ভাবে ভাটা চালাচ্ছেন জসিম। প্রবীণরা জানান, উক্ত জসিম খান এখানে গত বছর একটি ইটভাটা গড়ে তা থেকে ইট দেয়ার নাম করে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। 

এদিকে সরকারি নির্দেশ পরিবেশের ছাড়পত্র ,কয়লা,এবং জিকঝাক ভাটা ছাড়া ইট পোড়ানো যাবেনা। কিন্তুু সরকারি এ নির্দেশনার কোনটাই মানা হচ্ছেনা এখানে। নদী কাটা মাটিরস্তুপ পাশেই কিছু কাঠ দেখা গেছে। এ বিষয় জসিমক  মুঠফোনে জানান, খান ব্রিকস নামের ইটভাটা স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিক গাজীর। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় মোল­ারহাট বাজারে চেয়ারম্যান সিদ্দিক গাজীর সাংবাদিকদের জানান, জসিম নিজেই এখানে একটু জমি কিনে ইটভাটা গড়েছেন। ওটা আমার না। ক্যাশম্যামোতে খান ব্রিকস নামের দেখা যায় প্রো. মো. সালাম খান, পরিচালক মো. জসিম,উজ্জল,অসিম খান। 

বাবা এবং ছেলেরা মিলে এ ভাটা পরিচালনা করে আসছেন। অন্যদিকে রমী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধীকারীর কাছে মুঠো ফোনে জাতে চাইলে তিনি জানান, জসিম তার সাথে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া যাবেনা জানিয়ে পর পর পাঁচটি নোটিশ প্রেরণ করেছেন। তিনি আরো জানান, সে নিজেও বিভিন্ন ভাবে শর্ত মোতাবেক তার কাছ থেকে ইট,কিস্তিতে কিছু নগদ টাকা নেয়ার পরেও আরো ২০লাখ টাকা পাবেন জসিমের কাছে। 

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,জসিম এই সকল মানুষের কাছ থেকে ইট বাবদ অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রায় ৬০লাখ টাকা খরচ নিজের বাড়িতে ছোট,বড় দুটি ভবন নির্মান করেছেন। বালু ও ইট পরিবহনের জন্য ছোট,মাঝারি ৩/৪টি কার্গো কিনেছেন। এছাড়াও ভাইদের ছোট খাট দোকান দিয়ে দিয়েছেন। এ জন্য ইট ভাটায় ইট পোড়াতে না পেড়ে মানুষের ইট না দিয়ে পালিয়ে বেরাচ্ছেন। অন্যদিকে জসিম খান ইতোপূর্বে একটি কার্গো থেকে চোড়াই সিমেন্ট ও কয়লা কেনার দ্বায়ে মামলা হওয়ায় জেল খেটেছেন। এবং ওই মালের মূল্য মিটিয়ে মামলা থেকে রেহাই পান। 

 জসিম এর পূর্বেও জেলা, উপজেলা পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী নেতা, কিছু অসাধু প্রশাসনের সহায়তায় চোড়াই কারবারে লিপ্ত ছিল। অন্যদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে জসিম খান কিছু নেতার দ্বারস্থ্য হলে ঐ জনপ্রতিনিধি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, জসিম একটু সমস্যার মধ্যে পড়েছে এবং দুটি বোর্ড বিক্রিও করে দিয়েছে। তবে অনেকেই আমাকে বিষয়টি জানানোর পর তাদের একটু সময় দেয়ার জন্য অনুরোধ করি। 

অন্যদিকে জসিম সেল ফোনে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি টাকা নিয়েছি তা সত্য, তবে সময় হলে সবাইকেই পর্যায়ক্রমে পাওনা মিটিয়ে দেব। এ বিষয়ে ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার্স ইন চার্জ মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। 

এদিকে জসিমের বিরুদ্ধে সেন্টার ফর হিউম্যান রাইট মুভমেন্ট এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম লিটন র‌্যাব-৮সদর দফতর বরিশাল,উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভান্ডারিয়া, ওসি ভান্ডারিয়া, পরিবেশ অধিদপ্তর পিরোজপুর এবং মেসার্স রুমী এন্টার প্রাইজ এর মালিক বরাবরে অনুলিপি প্রেরণ করেছেন বলে জানান রফিকুল ইসলাম । 
 


এইচকেআর