বাউফলে তরমুজ ক্ষেত দখল নিতে সংঘাত, যুবক নিহত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তরমুজ ক্ষেতের জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে উজ্জ্বল কর্মকার (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গত (৩১ মার্চ) মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াঢেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মো. শামিম (৪২), মিজানুর রহমান (৪২) ও ফিরোজ গাজী (৪০) নামের আরও তিন ব্যক্তি গুরুতর আহত হয় বলে জানা গেছে। তাঁদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, উপজেলার বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের সাথে চরওয়াঢেল গ্রামের ফিরোজ গাজীর দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ জমিতে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষ করেন ফিরোজ। ঘটনার দিন সকালে মিজানুর তাঁর লোকজন নিয়ে তরমুজ কাটতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ঘটে। এক পর্যায়ে তা সংঘাতে রূপ নেয়। এ সময় ফিরোজের দলবলের হামলায় উজ্জ্বল কর্মকার, মিজানুর রহমান ও শামিম গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উজ্জ্বল কর্মকারকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় উজ্জ্বলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের বড় ভাই আনন্দ কর্মকার বলেন, আমার ভাইকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে রাস্তার পাশে অটোতে রাখা হয়। আমরা হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। দীর্ঘ সময় চিকিৎসা বিহীন থাকায় তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের অপর ভাই তাপস কর্মকারও একই অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসআই) মিজানুর রহমান মিজান। তিনি বলেন, খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সরাসরি হাসপাতালে নেয়া হয়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় কিছুটা দেরি হয়েছে, তবে কোনও অবহেলা ছিল না।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম রাজ্জাক বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চন্দ্রদ্বীপ এলাকার জালাল গাজী ও ফিরোজ গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। পুলিশের কোনো অবহেলা থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’