কয়লা না থাকায় পটুয়াখালীর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ

জাতীয় গ্রিডে নতুন শক্তি যোগ করার প্রত্যাশা জাগিয়েছিল পটুয়াখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার (আরপিসিএল-নোরিনকো) তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই থমকে গেছে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের উৎপাদন। প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটি। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কয়লা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও করা হয়। পরে একই বছরের জুন মাসে এটি অনানুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। তবে এখনো কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। এর মধ্যেই ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) এবং চীনের নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী এলাকায়। ২০২৪ সালের ৩ মে বিদ্যুৎকেন্দ্রসংলগ্ন পায়রাবন্দরের মাধ্যমে প্রথম কয়লাবাহী জাহাজ এ কেন্দ্রে পৌঁছায়। সংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন, পূর্ণমাত্রায় চালু হলে কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
আরও জানা যায়, আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৪৪০ কেভি সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ও ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর (ইএসপি) ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে কেন্দ্রটির চুল্লি থেকে কোনো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়নি। ধানখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘অনেক দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ। আগে নিয়মিত ধোঁয়া দেখা গেলেও এখন চুল্লি পুরোপুরি নিস্তব্ধ।’
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য পায়রাবন্দরের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি করা হতো। কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত ১৯ মার্চ ‘ডেজার্ট ভিক্টোরি’ নামে একটি কয়লাবাহী মাদার ভেসেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে কয়লা লাইটারিং প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে আনার কাজ চলছে।’ কেন্দ্রটি আবার কবে নাগাদ উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।’
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অবস্থা জানতে প্রকল্প পরিচালক তৌফিক ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘কয়লা সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং বার্ষিক বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লাবাহী জাহাজ আসতেও বিলম্ব হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি মাদার ভেসেল ইতিমধ্যে এসেছে এবং জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করা হয়েছে। আরও দুটি জাহাজ ৯ এপ্রিল কয়লা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।’ এসব কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছালে চলতি মাসের শেষ দিকে আবার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।