রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে থ্রি-হুইলার ও বাস শ্রমিকদের সংঘর্ষ, আহত ৪

বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় থ্রি-হুইলার (আলফা-মাহিন্দ্রা) ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এসময় জেলা ও মহানগর অটোরিক্সা, মাহেন্দ্র এবং সিএনজি চালক ওয়ার্কাস ইউনিয়ন ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বাস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।
বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর রূপাতলী বাসর্টামিনাল এলাকার লিলি পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বাস আটকে অবরোধ করে পটুয়াখালী বাস মালিক গ্রুপ এবং শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে সড়কের দু’পাশে পরিবহন আটকে গেলে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বাস সরিয়ে নিলে যানবাহন চলঅচল স্বাভাবিক হয়।
আহতরা হলেন, জেলা ও মহানগর অটোরিক্সা, মাহেন্দ্র এবং সিএনজি চালক ওয়ার্কাস ইউনিয়নের মহানগরের সহ-সাধারণ সম্পাদক মিলন মোল্লা, সংগঠনটির রূপাতলী শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈম ও আব্বাস।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বধবার রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে বাস শ্রমিকদের সাথে থ্রি-হুইলার চালকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও পরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে বাস শ্রমিকরা সড়কের বাস রেখে বিক্ষোভ করেন। প্রায় আধাঘন্টা সড়কের বাস রেখে আন্দোলন করেন তারা। এতে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জেলা ও মহানগর অটোরিক্সা, মাহেন্দ্র এবং সিএনজি চালক ওয়ার্কাস ইউনিয়নের মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক চুন্নু সিকদার বলেন, যাত্রী নিয়ে বুধবার সন্ধ্যার দিকে একটি থ্রি-হুইলার (আলফা-মাহিন্দ্রা) রূপাতলী থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে লিলি পাম্পের সামনে গেলে বাস মালিক গ্রুপের কয়েকজন সদস্য বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা হলে আমাদের ওপর বাস মালিক ও শ্রমিকরা হামলা চালায়।
এসময় আমাদের চার নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে তারা। পাশাপাশি ইউনিয়ন কার্যালয়টি ভাঙচুর করে। আহতদের উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার অটোরিক্সা, মাহেন্দ্র এবং সিএনজি বন্ধ রেখে আন্দোলন করবো।
তবে পটুয়াখালী বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, সংগঠনের নামে কিছু কতিপয় ব্যক্তি সড়কের পাশে থ্রি হুইলারে যাত্রী ওঠানোর নামে চাঁদাবাজি করে আসছিল। তাদের কারণে বাসে যাত্রী পাওয়া যায় না। বুধবার চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে ওই শ্রমিকরা আমাদের কয়েকজন বাস মালিকদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বাস শ্রমিকদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। চাঁদাবাজদের আটক ও হামলার প্রতিবাদে সড়কে বাস রেখে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন।
তিনি বলেন, উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. শরফুদ্দীন ঘটনাস্থলে এসে থানায় অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে আধাঘন্টা পর বাস আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। এতে যানচলাচলাচল স্বাভাবিক হয়। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের আশ্বাস কার্যকরি না হলে বৃহুতম আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, পুলিশের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছেন। পরে তাদের আশ্বাসে সড়ক থেকে বাস সরিয়ে নেয়া হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এইচকেআর