ঢাকা শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • সংবাদ প্রকাশের জের সাংবাদিককে মারধর জামায়াত কর্মীর, থানায় ডায়েরি  উপকূলের ‘লাইফলাইন’ বেতার বরিশাল নিজেই লাইফ সাপোর্টে বরিশাল ফরচুন সুজে চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছে না কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেলেনি ঈদ বোনাস ঈদকে সামনে রেখে কৌশলী হচ্ছে মাদক কারবারিরা, আট কেজি গাঁজাসহ আটক ২ বরিশালে ক্র‍মশই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে হাম, শিশুর মৃত্যু ঈদ ঘিরে বরিশালে মসলার বাজারে আগুন, বেড়েছে মাছের দামও   হামে আক্রান্ত হয়ে ছেলের মৃত্যু, মেয়েও ভর্তি হাসপাতালে বরিশাল মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে রুকন শিক্ষাশিবির সম্পন্ন  বরিশালে মিছিলের চেষ্টাকালে ছাত্রলীগের ১০ কর্মী আটক বাউফলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ
  • ঈদ ঘিরে বরিশালে মসলার বাজারে আগুন, বেড়েছে মাছের দামও  

    ঈদ ঘিরে বরিশালে মসলার বাজারে আগুন, বেড়েছে মাছের দামও  
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ঈদ ঘনিয়ে আসতেই বাজারে মসলাসহ নিত্যপণ্যের দাম যেন আকাশ ছুঁয়েছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ঈদের আনন্দের আগে তাই মসলার বাজারেই এখন অস্থিরতার ছায়া।

    গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, এলাচ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়। 

    লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দারুচিনি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং ধনিয়ার গুঁড়া ৩০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, মৌসুমি চাহিদা বাড়ার কারণেই বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে মুরগি ও ডিমের বাজারে, যেখানে আগের তুলনায় দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

    ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ১৯০ থেকে ২০০ টাকার ওপরে ছিল। একইভাবে কমেছে সোনালি জাতের মুরগির দাম। এ জাতের মুরগি এখন কেজি প্রতি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি মুরগির দাম রয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। 

    অন্যদিকে, ডজন প্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। গত এক সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দামে ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি কেজিতে প্রায় ১০ টাকা কমেছে। তবে গরুর মাংস এখনও কেজি প্রতি ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় এসব পণ্যের দামে এই পরিবর্তন দেখা গেছে। নগরের রূপাতলী বাজারে মুরগি কিনতে আসা নাসির হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে ২০০ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম। আজ (শুক্রবার) ১৮০ টাকায় পেলাম। কিছুটা স্বস্তি লাগছে।

    মুরগি বিক্রেতা মনির হাওলাদার বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে, তাই মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে ঈদের প্রধান অনুষঙ্গ পোলাও চালের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। বর্তমানে মানভেদে পোলাও চাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ১৩০ টাকার মধ্যে। একইভাবে চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় এবং খোলা সুগন্ধি চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    ঈদ উপলক্ষে সেমাই ও নুডুলসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারে ২০০ গ্রাম প্যাকেট সেমাই ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ৮০০ গ্রাম বোম্বাই সেমাই ২৮০ টাকা এবং খোলা লাচ্ছা সেমাই ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নুডুলসের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

    এদিকে সালাদের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত শসা, টমেটো, লেবু ও কাঁচামরিচের বাজারেও চাপ দেখা গেছে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে লেবুর বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ২০ থেকে ৩০ টাকায় এক হালি লেবু বিক্রি হতে দেখা গেছে।

    ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। অনেক দোকানে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম থাকায় ক্রেতাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। বোতলের গায়ে লেখা দামের চেয়ে লিটার প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

    ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ সংকটের কারণেই তেলের বাজারে এই চাপ তৈরি হয়েছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ পণ্যের চাহিদাও বেড়েছে। বিশেষ করে পোলাওয়ের চাল, মসলা, তেল, সেমাই ও শুকনো খাদ্যপণ্যের পাইকারি দাম কয়েকদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। 

    বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শাহআলম  বলেন, ঈদ সামনে রেখে পরিবারের জন্য বাজার করতে এসেছি। কিন্তু বাজারে এসে দেখি প্রায় সব জিনিসের দামই আগের চেয়ে অনেক বেশি। পোলাওয়ের চাল, তেল, মসলা, সেমাই, নুডুলস যেটাই কিনতে যাচ্ছি, দাম শুনে হিসাব মিলাতে কষ্ট হচ্ছে। একেকটা পণ্যে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ঈদের বাজার করা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেছে। বাজার মনিটরিং ঠিকভাবে হলে হয়তো সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতো।

    অন্যদিকে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি বর্তমানে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কেজি প্রতি করলা ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৭০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল ও ঝিঙ্গা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া বরবটি, পেঁপে, চিচিঙ্গা ও ধুন্দুল সবই কেজি প্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৬০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া কেজি প্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দাম এখনও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

    বাজারে বাজার করতে আসা গৃহবধূ নাসিমা বেগম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনও সাধারণ মানুষের জন্য দাম বেশি। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা দরকার।

    সাগরদী বাজারের সবজি বিক্রেতা কামাল উদ্দিন বলেন, ঈদের সময় পরিবহন সংকট ও যানজটের কারণে সরবরাহ কমে গেলে আবারও সবজির দাম বাড়তে পারে।

    এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায় সেখানেও দাম চড়া। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০, রুই ২৪০ থেকে ৩৫০, দেশি টেংরা ৬০০, বেলে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি ১২০০, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

    এ ছাড়া ১ কেজি সাইজের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা, ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পাশাপাশি ছোট জাটকা সাইজের ইলিশ (২০০ গ্রাম সাইজের ছোট মাছ) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায়। ইলিশের দাম সাইজের উপর নির্ভর করছে বলে জানান বিক্রেতারা।

    মাছ বিক্রেতারা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে মাছের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি নদী ও খামার থেকে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় বেশিরভাগ মাছের দাম বাড়তি। বিশেষ করে ইলিশ, চিংড়ি ও দেশি মাছের দাম বেশি।

    মাছ কিনতে আসা লিটন মিয়া বলেন, ঈদের আগে মাছের বাজারে এসে দেখি প্রায় সব মাছের দামই অনেক বেশি। পরিবার নিয়ে ভালো কিছু খাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাজেটের কারণে অনেক সময় কম দামের মাছেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।

    বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি ঈদের আগেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করে তোলে। তাদের দাবি, কার্যকর বাজার মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে থাকে।
     


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ