ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম

বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, পটুয়াখালীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাত, পটুয়াখালীতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
অভিযুক্ত উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম/ছবি: সংগৃহীত 
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মো. শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। পরে ট্রাইবুনালের বিচারক শিরিন নিলা মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।


মামলার আসামি মো. শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। এরপর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি রাজি না হলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার একমাত্র সন্তানকে দেখাশোনার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৪ মার্চ সকালে শহিদুল ইসলাম ওই নারীকে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।


এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি এতে সম্মতি দেননি। পরে গত ১৮ মে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মামলায় ওই নারীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনো থানায় পৌঁছায়নি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এইচকেআর
গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ