ভাণ্ডারিয়ায় ইউএনও’র বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে নির্যাতনের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মানসিক ও হয়রানি মূলক নিযার্তনের অভিযোগ উঠেছে পদাধিকার বলে সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসানের বিরুদ্ধে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান।
লিখিত বক্তব্য তিনি বলেন, ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত কেন্দ্র করে আমি প্রধান শিক্ষক (এসএম মজিবুর রহমান)’র উপর মানসিক ও হয়রানি মূলক নিযার্তন শুরু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান। তিনি চলতি বছরের ১৬ আগস্ট বিদ্যালয় পরিদর্শনের নামে চাপ প্রয়োগ করে রেজুলেশন খাতা, ক্যাশ বই, ২৫ মাসের ভাউচার, চেক বইসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যান। এ বিষয়ে ১৭ আগস্ট তাঁর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভুতভাবে চার সদস্য অডিট কমিটি গঠন করেন ইউএনও। এক দিনের নোটিশে ১৯ আগস্ট তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয়ে এসে তারা অডিট করেন। এতেও আমি তাদের সহযোগীতা করি। অডিট কমিটি বিধিবহির্ভুত হওয়ায় তা বাতিল করে বিধিমোতাবেক অডিট কমিটি গঠনের জন্য ২৭ আগস্ট ইউএনও বরাবরে আবেদন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করেন, আবেদন গুরুত্ব না দিয়ে ৩০ আগস্ট বিদ্যালয় এসে সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিছিন্ন করে আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পুলিশ সামনে রেখে সকাল ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত খেয়াল-খুশি মতো অডিট ও ভিডিও করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান। পরে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গত ৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট পিটিশিন দাখিল করি। যা বর্তমানে শুনানির জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। পরের দিন ৭ সেপ্টেম্বর রিট পিটিশনের বিষয়টি নির্বাহী অফিসার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। এরপরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসক ১৫ দিনের জন্য বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদা বেগম অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে নিয়ে ফেইসবুক লাইভে এসে আমার বিরুদ্ধে মানহানিকর বিবৃতি দেয়। এ ঘটনায় ১৫ সেপ্টেম্বর বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ছুটিতে থাকা অবস্থায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউএনও বিদ্যালয়ে গিয়ে আমার অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। পরবর্তি ১৩ সেপ্টেম্বর ২৬টি অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক নিনর্যাতন ও নোটিশের নামে হয়রানির প্রতিকার চেয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত আবেদন করেছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে এককভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের ২৬টি অভিযোগ পেয়েছি। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। তিনি এখনো নোটিশের জবাব দেন নি। উল্টো সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।
এইচকেআর