পাউরুটি, কেক বিস্কুট, শাকসবজি মাছ ও মাংসসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে: জেলা প্রশাসক

জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেছেন, মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য খাবার গ্রহণ করেন। পরিতাপের বিষয় বাজারে থাকা অনিরাপদ ও ভেজাল খাবার খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বর্তমানে আমরা যে খাবার গ্রহণ করছি, তা কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত এ বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্যাকেটজাত পাউরুটি, কেক ও বিস্কুট থেকে শুরু করে কাঁচা শাকসবজি, মাছ ও মাংসসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে। এসব খাবার খাওয়ার ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
বাজার মনিটরিং ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের গুণগত মান, ভেজাল মিশ্রণ রোধকরণ, বাজারদর নিয়ন্ত্রণ এবং সকল ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারকরণ সংক্রান্ত বিশেষ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভোক্তা অধিকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে। আইন অনুযায়ী অসাধু ব্যবসায়ীদের জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করতে হবে। এসময় তিনি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রসঙ্গে বাস-মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি বলেন, নগরের সব বাসস্ট্যান্ড ও গণপরিবহন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। স্টেশনে পরিত্যক্ত বাস, বাসের সিট ও টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ডেঙ্গুতে প্রাণহানি রোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এসময় তিনি ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে সরকারের চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বেলাল হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুম বিল্লাহসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বাস-মালিক সমিতির প্রতিনিধি, বাজার কমিটি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এইচকেআর