ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১

Motobad news

বিপ্লবী কর্ণেল তাহের বীর উত্তম দিবস আজ 

বিপ্লবী কর্ণেল তাহের বীর উত্তম দিবস আজ 

দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যে কয়জন অকুতোভয় বীর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তার মধ্যে অন্যতম কর্ণেল আবু তাহের। যুদ্ধে নিজের এক পা হারিয়েও তিনি দমে যাননি। বরং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে রেখেছেন অসামান্য অবদান। যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য পেয়েছেন বীর উত্তম খেতাব।

কিন্তু রাজনীতির নানা জটিলতায় তাকে সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২১ মার্চ দেশের উচ্চ আদালত থেকে দেওয়া রায়ে কর্নেল তাহেরের মৃত্যুদণ্ডাদেশকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। আজ সেই ২১শে জুলাই। যেদিন বীরের মত ফাঁসির মঞ্চে উঠেছিলেন ‘ক্র্যাচের কর্নেল’ খ্যাত আবু তাহের।

আবু তাহের আসাম প্রদেশের বাদারপুরে ১৯৩৮ সালের ১৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পরে আসাম থেকে তার পরিবার বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলায় আসেন। তার বাবার নাম মহিউদ্দিন আহমেদ এবং মায়ের নাম আশরাফুন্নেসা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষ করেন চট্টগ্রামের প্রবর্তক বিদ্যালয় ও কুমিল্লার ইউসুফ বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে সিলেটের এমসি কলেজ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন।

১৯৬১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসাবে যোগদান করেন এবং ১৯৬২ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে কাশ্মীর আর শিয়ালকোট সেক্টরে যুদ্ধ করেন তিনি৷ সে যুদ্ধে তিনি আহতও হন৷ একমাত্র বাঙালি অফিসার হিসাবে তাকে ‘মেরুন প্যারাস্যুট উইং’ নামক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
 
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার হিসাবে তাহের কমান্ডো প্রশিক্ষণ লাভ করেন ও পরে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাহের সম্মুখ সমরে আহত হন এবং এক পা হারান। কর্নেল তাহেরের সব ভাইবোন মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্বে ১১ নং সেক্টরে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের পরে তাহের প্রথমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু মতবিরোধের জন্য পদত্যাগ করেন। তিনি বামপন্থী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর তার নেতৃত্বে সিপাহী বিপ্লব সংঘটিত হয়, যা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফকে সেনাবাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই পতন ঘটায়, এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে কারামুক্ত করে।

পরবর্তীতে দায়েরকৃত এক হত্যা মামলায় তাহেরকে সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং ১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই তাকে ফাঁসি দেয়া হয়। ২০১১ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশের উচ্চ আদালত সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসির রায়কে অবৈধ ঘোষণা করে।


এসএমএইচ