মঠবাড়িয়ায় সরকারি বই বিক্রির টাকা সরকারি ফান্ডে জমা দিলেন সেই প্রধান শিক্ষক

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সরকারী হাতেম আলী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেন বই বিক্রির ৯ হাজার টাকা সরকারি ফান্ডে জমা দিয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক মঠবাড়িয়া শাখার অনুকূলে এ টাকা জমা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে মঠবাড়িয়া ভাঙারির দোকান থেকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য বইগুলো ট্রাকে বোঝাই পাচারের সময়। এ দৃশ্য স্থানীয়দের নজরে আসলে তারা প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের খবর দেয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথ ট্রাক সহ বইগুলো জব্দ করেন। এ সময় মঠবাড়িয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) ইউনুস হাওলাদার বইগুলো পাথরঘাটা এলাকার হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। আর এ মন্তব্য করে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নের মুখে অনেকটা বিপাকে পড়েন তিনি।
বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি এ পাঠ্যবই বিক্রি করা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী ও দন্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় অনেকটা হতাশায় ভুগছেন ওই প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হলে সাময়িক বরখাস্ত হতে পারেন তিনি। এছাড়া মামলা হলে গ্রেফতার হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেন জানান, ফ্যাসিস্ট আমলের পুরনো বইগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বই ৪ হাজার ২ শত টাকা এবং খাতা ও অন্যান্য কাগজ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বইগুলো বিজ্ঞানাগারে সংরক্ষিত ছিল। বিজ্ঞানাগার পরিস্কার করার জন্য পুরনো বই খাতা বিক্রি করা হয়েছে। বইগুলো পুরনো সিলেবাসের। ২০২১ ও ২০২২ সালের বইও ছিল।
তিনি বলেন, বইয়ের পিছনের কভাবে লেখা ছিল "শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ- শেখ হাসিনার বাংলাদেশ "।এই বই স্কুলে রেখে জায়গা আটকিয়েতো লাভ নেই। কারিকুলাম পরিবর্তন হওয়ায় এ বই ভাঙারির দোকান ছাড়া আর কোন কাজে আসবেনা। এজন্যই ভাঙারির দোকানে ১৫ টাকা কেজি দরে ২১০ কেজি বই বিক্রি করে ফেলেছি।
তিনি আরও বলেন ,বই বিক্রি করে এর টাকা আমি পকেটে নেই নি। এই টাকা দিয়ে কিছু শিক্ষকদের চা, বিস্কুট ও নাস্তা করানো হয়েছে। ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদেরও বিজ্ঞানাগার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য বই বিক্রির টাকা দিয়ে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এইচকেআর