ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • রিফাইন্ড হোক বা তৃণমূল, কোনো নামেই কর্মসূচি চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড শিশু মৃত্যু, মঠবাড়িয়ায় বন্ধ হচ্ছে সেই ক্লিনিক  বরিশালে অপরাধীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ  আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের বিসিএমডি প্রধান হলেন মাসুম মিজান এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান হলেন বরিশালের কৃতি সন্তান আহসান হাবিব  প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামালে আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশই থাকছে বরিশাল নগরীতে থ্রি-হুইলারের বিদ্যমান ভাড়া বহাল, অবৈধ যানের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণসহ ছয় দফা দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন মঠবাড়িয়ায় সরকারি বই বিক্রির টাকা সরকারি ফান্ডে জমা দিলেন সেই প্রধান শিক্ষক 
  • তথ্য উপদেষ্টা

    রিফাইন্ড হোক বা তৃণমূল, কোনো নামেই কর্মসূচি চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ

    রিফাইন্ড হোক বা তৃণমূল, কোনো নামেই কর্মসূচি চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ
    পিআইডির সম্মেলন কক্ষে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    অন্য কোনো নামেও আওয়ামী লীগ কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

    তিনি বলেন, রিফাইন্ড হোক বা অন্য কোনো নতুন আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ— যাই বলি না কেন, কোনো নামেই মানে আওয়ামী লীগ নামে সে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না।

    মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  

    প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ হবে কি না- এ বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন,‌ সফট বা হার্ড আওয়ামী লীগ না। আমি আগেও বলেছি, এই নির্বাচনে বিএনপিও তো নেই, আছে কি? স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কি বিএনপি আছে? জামায়াত, এনসিপি আছে? নেই। একসময় ছিল, মানে যে আইনটা মাঝখানে পরিবর্তিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়, সেখানে একটা নির্বাচনে দল ছিল, সেটা হচ্ছে চেয়ারম্যান বা মেয়র। তখনও কিন্তু মেম্বার এবং কমিশনার নির্বাচনে কোনো দল পার্টিসিপেট করতো না। খন এটা তুলে দেওয়া হয়েছে, মানে আমরা আগের জায়গায় চলে গেছি।  

    তিনি বলেন, এখানে (স্থানীয় সরকার নির্বাচন) বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত কেউই পার্টিসিপেট করছে না। এটা হলো একদম নিশ্চিত কথা। আর দ্বিতীয় কথাটি হচ্ছে, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের একটা আলাপ মাঝে মাঝে কোথাও কোথাও দেখা যায়, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখা যায়।  

    ‘আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ আছে, ততদিন সে যে নামেই হোক না কেন, রিফাইন্ড হোক বা অন্য কোনো নতুন আওয়ামী লীগ, তৃণমূল আওয়ামী লীগ— যাই বলি না কেন, কোনো নামেই মানে আওয়ামী লীগ নামে সে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবে না। এই জিনিসটা আমাদের বুঝতে পারতে হবে।’ 

    আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, তার মানে সরকারের অবস্থান হচ্ছে, সরকার মনে করে যতদিন পর্যন্ত আদালতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি হবে না— আমি আগের দিনই বলেছিলাম, এটা আসলে আদালতের এখতিয়ার এবং সিদ্ধান্ত হবে, তার আগ পর্যন্ত সরকার মনে করে এই কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকা উচিত।  

    শিগগির তথ্য কমিশন গঠন  
    প্রায় দুই বছর ধরে দেখছি যে তথ্য কমিশন অকার্যকর হয়ে আছে। আরেকটি হলো, গণমাধ্যম কমিশন করার কথা বলা হয়েছিল, সেটির অগ্রগতি কতটুকু? এ বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তথ্য কমিশন গঠন করার জন্য যা যা প্রসেস সেগুলো চলছে। আমরা খুব দ্রুত তথ্য কমিশন পাবো। এটা আমি আপনাকে কনফার্ম করছি, আর খুব বেশি দেরি হবে না। কারণ এই কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি কিছুটা হলেও জড়িত আছি, আমি নিজেও কিছুটা জানি, সেই কারণে বলছি এটা দ্রুত হবে।  

    তিনি বলেন, আর গণমাধ্যম কমিশন নিয়ে আমি আগের একটা ব্রিফিংয়ে সম্ভবত জানিয়েছিলাম যে- আমরা আমাদের অনেক স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বসেছি, সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা এই কমিশনটা করবো। আগের যে মিডিয়া কমিশনের রিপোর্ট, সেটাকে ভিত্তি ধরে আমরা আবার মনে করি যে এটাকে একটু নতুন করে আবার আলোচনা করা দরকার আছে, কিছু মিসিং আছে কি না বা নতুন কিছু যুক্ত করা যায় কি না, এই কারণে আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আবার বসবো এবং এই কমিশনটাও হবে।  

    চীনের সঙ্গে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নতুন করে পুনর্গঠন করছে সরকার। শুধু নদীশাসন নয়, বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং নদীভাঙন প্রতিরোধকে সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পটি প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ জন্য তিস্তা নদীতে বিদ্যমান ব্যারাজের পাশাপাশি আরও একটি নতুন ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।  

    তিনি বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের অবস্থান থেকে বাংলাদেশ এক চুলও সরে আসেনি। তিস্তা, গঙ্গাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ তার ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে পানিবণ্টন ইস্যুর কোনো সম্পর্ক নেই।  

    জাহেদ উর রহমান বলেন, চীনের আগের প্রস্তাব মূলত নদীশাসনকেন্দ্রিক ছিল। তবে বর্তমান পরিকল্পনায় উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট, সেচব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীন সহযোগিতা করবে। অর্থায়নের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকার মনে করে না। বাংলাদেশ নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। 

    ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুস লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। 

    এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতিটা কিন্তু পুরো সার্ভিস নেওয়ার ক্ষেত্রেই ঘটে। টেকনিক্যালি বলতে পারেন, এর সঙ্গে সরকারের দুই অংশ (সরকারি কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব) জড়িত। তবে এটা রোধ করার দায়িত্ব সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যারা থাকেন, তাদের বড় দায় আছে।

    ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এই ১২ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা করেননি। তবে এ কথাও বলছি না যে কোনো দুর্নীতি হয়নি। এই দুর্নীতি একেবারে গ্রাসরুট পর্যন্ত প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে। কোথায় কোথায় অবৈধ অর্থ লেনদেন হয়, আমরা সবাই জানি। অনেক সময় কাজ দ্রুত করাতে, আবার অনেক সময় বাধ্য হয়েও মানুষ টাকা দেয়। সবাই কোনো না কোনোভাবে এর অংশ। 

    তিনি বলেন, আমাদের সরকারের সময়ও দুর্নীতি একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে— আমরা এমন দাবি করি না। বিষয়গুলো অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে আমরা নিজেরাও সতর্ক আছি, যাতে ধীরে ধীরে এগুলো কমিয়ে আনা যায়। আগামী বছর টিআইবির প্রতিবেদনে দুর্নীতির পরিমাণ কমবে বলে আমরা আশা করি।  

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতি তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, দুর্নীতি একটি ফৌজদারি অপরাধ, এর কোনো তামাদি নেই। বহু বছর পরও চাইলে তদন্ত করা যায়। দুদক একটি স্বাধীন কমিশন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি তুলেছেন, তবে আমার মতে স্বাধীন কমিশন হিসেবে দুদকের উচিত অভিযোগগুলো তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা। 

    তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে তখনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। দুদক কিছু পদক্ষেপ নেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। তাই এই দায়িত্ব দুদকের। শুধু অন্তর্বর্তী সরকার নয়, আওয়ামী লীগের সময়কার অভিযোগ, আমাদের সরকারের সময়কার অভিযোগ, সব ক্ষেত্রেই দুদক স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে। সরকার এটাকে বাধা দেবে, সেই প্রশ্নই আসে না; বরং সরকার এটাকে উৎসাহিত করবে। 

    চীন-বাংলাদেশ করিডোর প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, পৃথিবী এখন কানেক্টিভিটির কথা বলে। যে কোনো কানেক্টিভিটি যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করে করা যায়, তাহলে আমরা সেটাই চাই।  

    তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার হয়ে যে করিডোরের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে অনেক ভ্যারিয়েবল আছে। বাংলাদেশের জন্য সেটি কতটা উপযোগী হবে, মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। এসব দিক যাচাই-বাছাই করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।  


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ