শিশু মৃত্যু, মঠবাড়িয়ায় বন্ধ হচ্ছে সেই ক্লিনিক

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টপটেন জেনারেল হাসপাতাল প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগ।
সম্প্রতি ১টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তে হাসপাতালটির লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির বিষয়টি উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও ১২ দিন পরও সেটি চালু থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। অবশেষে প্রশাসন হাসপাতালটি বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে সকালে টপটেন জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে হাসপাতালটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বিন সনদ, পরিবেশ সনদ, মাদক লাইসেন্স এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স ছাড়া সেবা চালিয়ে যাচ্ছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৭ জুন সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে হাসপাতালটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু নির্দেশ জারির ১২দিন পরও হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি, চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন রোগ নির্ণয় পরীক্ষা চলতে থাকে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে হাসপাতালটির কার্যক্রম প্রকাশ্যেই পরিচালিত হলেও এতদিন তা বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক নজরদারির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সেখানে টপটেন জেনারেল হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব দ্রুত নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এইচকেআর