ঢাকা রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • হিজলায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দারসহ গ্রেফতার ৬ বিসিসিতে মশক নিধনে বরাদ্দ বাড়লেও কমছে না মশার উপদ্রব বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের ‘ঘরবাড়ি’ যেন জেলহাজত! বরিশাল নগরীতে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক ২   আমতলীতে সড়ক ধসে মাছের ঘেরে  বিএম কলেজ শিক্ষা-সাংস্কৃতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র- মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশালে ৫ মাদকসেবিকে কারাদণ্ড ও দেড় কেজি গাঁজাসহ আটক ১  মুলাদীতে গাছুয়া আব্দুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন দেওয়ান মামুন  মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম বরিশাল জেলা দক্ষিণের পরিচিতি সভা কোচিংয়ে বিরক্ত করার অভিযোগে জিলা স্কুলের দুই শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক
  • বিসিসিতে মশক নিধনে বরাদ্দ বাড়লেও কমছে না মশার উপদ্রব

    বিসিসিতে মশক নিধনে বরাদ্দ বাড়লেও কমছে না মশার উপদ্রব
    ফাইল ছবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    মশক নিধনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) বরাদ্দ প্রতিবছরই বাড়ছে। কিন্তু নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব কমছে না। বরং পরিত্যক্ত জলাশয়, ডোবা, নর্দমা ও জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ায় সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় বেড়ে যায় মশার উৎপাত। এতে বাড়ছে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও।

    সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মশক নিধনে কীটনাশক কেনার জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৪ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫০ টাকা। আর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা। তবে মশক নিধন কার্যক্রমের সুফল সমানভাবে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর।

    গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে মাঝেমধ্যে মশক নিধন অভিযান দেখা গেলেও প্রান্তিক ও আবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয় না বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে নগরবাসীর। ফলে মশারি ও কয়েল ব্যবহার করেও অনেক সময় স্বস্তি মিলছে না।

    সরকারি বিএম কলেজের ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরাও মশার উৎপাতে ভোগান্তিতে পড়েছেন। শিক্ষার্থী আব্দুল আলিম জানান, ছাত্রাবাসের আশপাশে নোংরা পানি ও ময়লা জমে থাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দুপুরেও মশারির ভেতরে থেকে কয়েল জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হয়।

    বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, মশক নিধনে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রমও চলছে।

    তিনি বলেন, কাজের পরিধি বাড়লে বাজেট কিছুটা বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। তবে নগরবাসীর অভিযোগ, বরাদ্দ বাড়লেও তার সুফল সমানভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে নগরীর প্রান্তিক এলাকার অনেক বাসিন্দা নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম না হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। 

    মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে নগর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা। বাড়িঘর ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, নর্দমা ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশাবাহিত রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন তারা।

    বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    তিনি বলেন, সকালে ও বিকেলে মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়। তাই দিনেও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

    বিসিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। নগরীর যেসব এলাকায় মশার প্রজননস্থল রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ১০৫ জন। এ সময়ে মারা গেছেন ১০ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬ হাজার ৬৭৩ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪২২ জন।

    স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি প্রতিবছর মশক নিধনে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

    শুধু বরাদ্দ বাড়ানো নয়-মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত ওষুধ ছিটানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আরও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছেন নগরবাসী।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ