ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • ভোলায় পুকুর ও ঘেরে মাছ চাষে ভাগ্য বদল, বছরে বেচাকেনা দেড়শ কোটি টাকা  দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর মামলা: এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীপক্ষের আপস ভোলায় ১৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার টিকটকে পরিচয়ে প্রেম, ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ পাউরুটি, কেক বিস্কুট, শাকসবজি মাছ ও মাংসসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে: জেলা প্রশাসক  পটুয়াখালী ও পিরোজপুর‌সহ চার জেলায় নতুন ডিসি বরিশালে নানা আয়োজনে জিয়া মঞ্চের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ তজুমদ্দিনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেপ্তার সাবেক এমপি রিমনের বাসা থেকে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী রিমান্ডে
  • ভোলায় পুকুর ও ঘেরে মাছ চাষে ভাগ্য বদল, বছরে বেচাকেনা দেড়শ কোটি টাকা 

    ভোলায় পুকুর ও ঘেরে মাছ চাষে ভাগ্য বদল, বছরে বেচাকেনা দেড়শ কোটি টাকা 
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    মাত্র একটি ইউনিয়ন থেকে বছরে মাছ বিক্রি হয় প্রায় দেড়শ কোটি টাকার। বিষয়টি শুনতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি বাস্তব। আর এমন বাস্তব ঘটনা ভোলা সদর উপজেলার চর সামাইয়া ইউনিয়নের। ওই ইউনিয়নের চাষিরা মাছচাষের বিপ্লব ঘটিয়ে প্রমাণ করেছেন অবাস্তব বলে কিছু নেই, পরিশ্রম ও মনবল থাকলে সবই সম্ভব।

    ভোলা সদর উপজেলার মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ছোট ও বড় মিলে পুকুর ও ঘেরের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। বাণিজ্যিকভাবে মাছচাষ হয় প্রায় আড়াই হাজার পুকুর ও ঘেরে। এরমধ্যে চর সামাইয়া ইউনিয়নেই বড় পুকুর ও ঘেরের সংখ্যা ২ শতাধিকেরও বেশি। এছাড়াও বাণিজ্যিকভাবে ছোট ও বড় মিলে প্রায় ৫ শতাধিকের বেশি পুকুর ও ঘেরে মাছ চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে রুই, কাতলা, পাঙাশ, তেলাপিয়া, পাবদা, কই, শিং। 

    সরেজমিনে চর সামাইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মৎস্য খামারে গিয়ে দেখা গেছে, পুকুর ও ঘেরের মালিক ও শ্রমিকরা মিলে মাছের খাবার দিচ্ছেন। আবার কোথাও মাছ ধরছেন বিক্রির জন্য। 

    খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোলার বিভিন্ন এলাকার পাইকার ও জেলার বাইরে বরিশাল, ঝালকাঠি ও লক্ষ্মীপুরে তারা মাছ বিক্রি করেন। জেলার বাইরের পাইকাররা ট্রাকে করে শত শত টন মাছ নিয়ে যান। অনেক পাইকাররা আবার নিজেরা পুকুর ও ঘের ঠিকা ও এককালীন কিনে শ্রমিক দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যান।


    চর সামাইয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মো. হারুন অর রশিদ, আব্দুল কুদ্দুস ও শিহাব হাওলাদার জানান, চর সামাইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পুকুর ও ঘেরে মাছ চাষ করে শত শত শিক্ষিত বেকার যুবক স্বাবলম্বী হয়েছেন। ভাগ্য বদল হয়েছে অনেকের। এছাড়াও পুকুর ও ঘেরে হাজার হাজার শ্রমিকের স্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ হয়েছে। চাষিরা বিভিন্ন ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থার (জিজেইউএস) বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত সফল হচ্ছেন। 

    তারা আরও জানান, পুকুর ও ঘেরে মাছচাষে সফল হওয়ায় এখন অনেক মানুষ মাছচাষে ঝুঁকছেন। কেউ পেশায় মাছচাষি, আবার কেউ দোকানি, কেউ বেকারত্ব দূর করতে মাছচাষ করছেন। আবার কেউ কেউ চাকরির পাশাপাশি মাছচাষ করছেন। তাদের দাবি, প্রতি বছর চর সামাইয়া ইউনিয়নের পুকুর ও ঘের থেকে দেড় থেকে দুইশো কোটি টাকার দেশীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে।

    মাছচাষি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগে তিনি টিভি ও ইউটিউবে দেখেছেন পুকুর ও ঘেরে দেশীয় মাছ চাষ করে কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। সেই থেকে তার ইচ্ছা হয় মাছচাষের। এছাড়াও তার আত্মীয় ও পরিবারের লোকজনও মাছচাষে তাকে আগ্রহী করেন। এরপর একটি তিন একরের ঘের দিয়ে শুরু করেন পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছ। একজন শ্রমিক রাখেন তার সহযোগিতার জন্য।

    কয়েক মাস পর তার ঘেরের মাছ বড় হয়। তখন তিনি মাছ পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। মাছের খাবার, শ্রমিকের বেতনসহ সব খরচ বাদে তার প্রায় ১ লাখ টাকা লাভ হয়। এতে তিনি আরও উৎসাহিত হন। তারপর তিনি তিনটি ঘের ও দুইটি পুকুর নিয়ে আবারো মাছ চাষ শুরু করেন। পরের বছর আরও পুকুর ও ঘের নিয়ে পাঙাশ ও তেলাপিয়ার পাশাপাশি রুই, কাতলা, কই ও শিং চাষ শুরু করেন। তখন আরও বেশি সফলতা পান। তার দাবি, বর্তমানে ১০টি ঘের ও ১৫টি পুকুর থেকে বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেন।  

    আরেক চাষি মো. মাকসুদ মাতাব্বর জানান, তিনি ১০-১২ বছর আগে শূন্য অবস্থায় মাছচাষ করতে আসেন। ধার-দেনা ও ঋণ নিয়ে শুরু হয় তার মাছচাষ। কঠোর পরিশ্রম ও মনবলের কারণে আজ তিনি ৩৫টি পুকুর ও ৫টি ঘেরে দেশীয় মাছ চাষ করছেন। বছরে তিনি ২ থেকে আড়াই কোটি টাকার মাছ বিক্রি করেন।  

    তিনি বলেন, শুরুতে অনেক বাধা এলেও মনবল হারাইনি, তাই আজ সফল হয়েছি। এমন সফলতা দেখে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক এবং ব্যবসায়ীরা মাছচাষে ঝুঁকেছেন। 

    মাছচাষি মো. মাহাবুব আলম জানান, তিনি তার পুকুর ও ঘেরগুলো থেকে প্রতি বছর রুই, কাতলা, পাঙাশ, তেলাপিয়া, কই, শিংসহ বিভিন্ন মাছ বিক্রি করেন। তার পুকুর ও ঘেরগুলোতে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তিনি আগামীতে আরও পুকুর ও ঘের বাড়াবেন। তখন আরও বেকারদের কর্মসংস্থান হবে। বর্তমানে ছোট ও বড় মিলে প্রায় ৪০টির মতো পুকুর ও ঘের রয়েছে। 

    তিনি আরও জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাছের খামার করছেন। মৎস্য বিভাগ থেকে তাদের খোঁজ খবর ও পরামর্শ দেয়। তার মতে, চর সামাইয়া ইউনিয়ন থেকে বছরে প্রায় ১০০ থেকে দেড়শ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। তবে আগামীতে খামার সংখ্যা বাড়বে বলে তার ধারণা। 

    ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া জানান, ভোলা সদর উপজেলার মধ্যে চর সামাইয়া ইউনিয়ন দেশি মাছচাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শত শত খামারি মাছচাষ করে নিজেদের ভাগ্য বদল করেছে। অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। 

    তিনি আরও জানান, চর সামাইয়া ইউনিয়ন থেকে তাদের হিসাব মতে বছরে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। যা ভোলাসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। তারা মাছচাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এছাড়াও নতুন খামারিদের প্রশিক্ষণসহ সহযোগিতাও করা হচ্ছে।  

    তিনি আরও জানান, চর সামাইয়া ইউনিয়নে শতাধিকের বেশি বড় বড় খামারি আছে, যারা বছরে ৫০ লাখ থেকে শুরু করে আড়াই কোটি টাকার মাছ বিক্রি করে থাকেন। তার দাবি, মাছ চাষে অধিক লাভ হওয়ায় অনেকে চাকরি ও ব্যবসার পাশাপাশি খামার করছেন। 


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ