ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • এলপিজির কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে ডিসিদের নির্দেশ গৌরনদীতে ছাত্রকে কান ধরিয়ে ওঠবস, যুবদল নেতাকে কারাদণ্ড বরিশালে ঘুমন্ত বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন ভোলায় পুকুর ও ঘেরে মাছ চাষে ভাগ্য বদল, বছরে বেচাকেনা দেড়শ কোটি টাকা  দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর মামলা: এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে বাদীপক্ষের আপস ভোলায় ১৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার টিকটকে পরিচয়ে প্রেম, ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ পাউরুটি, কেক বিস্কুট, শাকসবজি মাছ ও মাংসসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল পাওয়া যাচ্ছে: জেলা প্রশাসক  পটুয়াখালী ও পিরোজপুর‌সহ চার জেলায় নতুন ডিসি বরিশালে নানা আয়োজনে জিয়া মঞ্চের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
  • বরিশালে ঘুমন্ত বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন

    বরিশালে ঘুমন্ত বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা, ছেলের যাবজ্জীবন
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    বরিশালে ঘুমন্ত বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুত্রকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বরিশাল সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ।

    মামলায় অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় পলাশ হাওলাদার পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

    দণ্ডপ্রাপ্ত পলাশ হাওলাদার উজিরপুর উপজেলার পরমানন্দ সাহা গ্রামের মৃত আলী আকবর হাওলাদারের ছেলে।

    মামলার বাদী নিহত আলী আকবর হাওলাদারের অন্য পুত্র মো. শহিদ হাওলাদার এজাহারে উল্লেখ করেন, তাদের মা দীর্ঘদিন আগে মৃত্যুবরণ করেন। তার পিতা একজন দিনমজুর ছিলেন। তার মেজ ভাই পলাশ সাকরাল গ্রামের ইসমাইল হোসেনের কন্যা জোছনা আক্তারকে বিয়ে করে প্রায় একবছর ঘর সংসার করে। পরে পুনরায় সে (পলাশ) পরিবারের সবার অমতে ভদ্রসা গ্রামের শাহ আলম রাঢ়ীর কন্যা সুইটি বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে শশুর বাড়িতে বসবাস শুরু করে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রায়ই পলাশ তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে উঠতে চাইলে তার বাবা বাধা প্রদান করেন। এনিয়ে বাবা আলী আকবরের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত ছিল পলাশ। এরইমধ্যে পলাশের প্রথম স্ত্রী জোছনা বেগমকে কোন প্রকার ভরণপোষণ না দেওয়ায় তিনি (জোছনা) পলাশের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় পলাশ বেশ কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়।

    মামলার বাদী বলেন, ওই মামলা করার জন্য পলাশ তার বাবা আলী আকবরের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযুক্ত করেন। ফলে কারাভোগের প্রতিশোধ নিতে সে মরিয়া হয়ে ওঠে। এনিয়ে ২০১০ সালের ২ মে সন্ধ্যার পর পিতার সঙ্গে পলাশের বাগবিতণ্ডা হয়। ওইদিন মধ্যরাতে পলাশসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন ব্যক্তি তার ঘুমন্ত পিতাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরেরদিন ৩ মে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশী আলমগীর হাওলাদার তাদের পিতাকে পার্শ্ববর্তী একটি ধান ক্ষেতে হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা এবং চোখ-মুখ গামছা দিয়ে বাঁধাসহ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় দেখে তাদের বাড়িতে খবর দেয়।

    পরে পরিবারের সদস্যরা মুমূর্ষু অবস্থায় আলী আকবর হাওলাদারকে প্রথমে উজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তার মৃত্যু হয়। এরপর নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।

    এজাহারে আরও উল্লেখ রয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সযোগে আলী আকবরকে বরিশালে নেওয়ার সময় পলাশ অ্যাম্বুলেন্সে উঠে তার বাবার গায়ে হাত দিতে গেলে তার বাবা পলাশের হাত সরিয়ে দেন। তবে সেসময় তিনি মুখে কোনো কথা বলতে পারেননি। এতে বাদীর সন্দেহ হয়। পরে বাদীর ছোট ভাই সবুজের কাছ থেকে ওইদিন রাতে পলাশ ও তার সহযোগীরা বাবাকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনে থানায় এসে হত্যা মামলা করেন।

    মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৫ মার্চ উজিরপুর মডেল থানার ওসি সুকুমার রায় আদালতে তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন। মামলায় একাধিক সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার বিচারক উল্লেখিত রায় ঘোষণা করেছেন।


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ