প্রত্যেক ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের লক্ষ্য: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে যুবসমাজকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রত্যেক ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার সকালে ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং লিমিটেড এর আয়োজনে ভোলা শিল্পকলা একাডেমিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ৮ম ব্যাচ এবং এআই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ২য় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই কর্মসংস্থান ও আয় করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার যুবসমাজকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত হয়ে যুবসমাজ নিজেকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি পরিবার ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারবে। ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগের অনেক প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ শেষে লক্ষ লক্ষ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করছে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই হবে না, প্রশিক্ষণার্থীদের যথাযথভাবে কাজ শিখে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিন থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে নিজেদের এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন। এসময় তিনি প্রশিক্ষণের নামে শুধু অর্থ ব্যয় না করে প্রশিক্ষণার্থীরা যেন বাস্তবিক অর্থেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকৃত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলায় প্রতিভাবানদের বাছাই করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি করারা পাশাপাশি একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা। যুবসমাজকে মাদক ও ডিভাইসের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রেখে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে পারলে তাদেরকে ধ্বংসের পথ থেকে রক্ষা করা সম্ভব। এ জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।
ভোলা জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর ও ই-লার্নিং এন্ড আর্নিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম।
স্বাগত বক্তব্যে রাখেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক ও ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির। এসময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশিক্ষণার্থী, অভিভাবকবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এইচকেআর