ঢাকা সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বন্ধ পাটকলগুলো চালু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা রয়েছে:  বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী  আমতলীতে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি ব্রিজ নির্মাণ, ৫০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো   ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী নিহত অবকাশকালেও চলবে জরুরি বিচার, আপিল বিভাগে বসবে চেম্বার কোর্ট  ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী টানা তিনদিন কমলো সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ঝালকাঠিতে ১২০ গাছ কাটার পর স্থগিত ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ১৬ মার্চ ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১২, আহত প্রায় ৩ হাজার
  • “মাকে পুলিশে নিয়ে গেছে, তোমরা আমার মাকে এনে দাও ”

    “মাকে পুলিশে নিয়ে গেছে, তোমরা আমার মাকে এনে দাও ”
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    পুলিশ আমার মাকে ধরে নিয়ে গেছে । মাকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না । তোমরা আমার মাকে এনে দাও । এ কথাগুলো বলতে বলতে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেলে ছয় বছরের শিশু মো. আলিফ ।

    আলিফের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া গ্রামে । তার বাবার নাম মো . মিরাজ হোসেন ( ২৮ ) । মায়ের নাম মোসা . নূপুর আক্তার ( ২৭ ) । আলিফ উপজেলা সদরের বাউফল দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ।

    আলিফের বাবা মিরাজকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তার মা নূপুর আক্তার, নানী মোসা . রেহেনা বেগম ( ৪৫ ) খালা মোসা . আকলিমা বেগমকে ( ২২ ) গত শনিবার বিকেলে পুলিশ গ্রেপ্তার করে রোববার সকালে কারাগারে পাঠায় । আদালত রেহেনা বেগমকে জামিন দেন । নূপুর ও আকলিমাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন । তাঁরা কারাগারে আছেন ।

    বুধবার দুপুরে সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে , দাসপাড়া গ্রামের মিরাজ ও নূপুরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল । একপর্যায়ে পরিবারের সম্মতি ছাড়াই ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর তাঁরা দুজনে বিয়ে করেন । তাঁদের সংসারে রয়েছে ছয় বছর বয়সের আলিফ নামে এক পুত্র সন্তান । সংসার জীবনে তাঁরা সুখেই ছিলেন ।

    একপর্যায়ে মাদরাসা অধিপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে মিরাজের চাকুরি হয় । সেই সুবাধে মিরাজ ঢাকায় থাকেন । দুই বছর আগে স্ত্রী নূপুরকে না জানিয়েই মিরাজ দ্বিতীয় বিয়ে করে । শুরু হয় পারিবারিক কলহ । দ্বিতীয় স্ত্রীকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বাড়িতে এসে প্রায়ই নূপুরকে মারধর করতেন মিরাজ । নূপুরের শশুর বাড়ির লোকজন মিরাজের পক্ষ নেয় । তাঁদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ২০ - ২৫ দিন আগে বাবার বাড়িতে এসে ওঠেন নূপুর ।

    সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল ( গত বৃহস্পতিবার ) রাত সাতটার দিকে নূপুরের বাবার বাড়িতে মিরাজ গিয়ে নূপুরকে মারধর করতে থাকে । তাঁকে রক্ষা করতে নূপুরের মা রেহেনা বেগম ও বোন আকলিমা এগিয়ে গেলে তাঁদেরকে মারধর করে । এক পর্যায়ে তাঁরা ( নূপুর , রেহেনা ও আকলিমা ) প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুললে মিরাজ দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হন । ওই ঘটনায় মিরাজের বোন হেপী বেগম ( ৩২ ) বাদী হয়ে মিরাজের স্ত্রী , শাশুড়ি ও শ্যালিকাসহ আট জনের নাম উল্লেখ করে বাউফল থানায় মামলা করেন । ওই মামলায় সাাক্ষী করা হয়েছে সাত ব্যক্তিকে । যাঁরা সবাই মিরাজের স্বজন ।

    মিরাজের একমাত্র ছেলে আলিফ বলে ,‘ আমার মায়ের কোনো দোষ নাই । সব দোষ বাবার । ’

    স্থানীয় মো . খলিলুর রহমান ( ৪২ ) বলেন , মিরাজের স্বভাব চরিত্র ভালো না । শুনেছি দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রায়ই নূপুরকে মারধর করা হত । গত বৃহস্পতিবার মিরাজ তাঁর স্ত্রী নূপুরকে মারতে থাকে । তখন নূপুরের মা ও বোনের প্রতিবাদের মুখে পালিয়ে যাওয়ার সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে চোখের ওপরের অংশে আঘাত পেয়েছে । সেই ঘটনায় নূপুর ও তাঁর বোন আকলিমা কারাগারে আছেন । এটা খুবই কষ্টদায়ক । খলিলুরের মত এ ঘটনায় অনেকেই মিরাজের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।

    এ বিষয়ে মিরাজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি । তবে মামলার বাদী ও মিরাজের বোন হ্যাপী বেগম বলেন , এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন না । মিরাজই ভালো বলতে পারবেন । ’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন , ঘটনা ঘটার পরে সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়েছে । সাক্ষীরা সবাই তাঁদের স্বজন বলেও স্বীকার করেন।

    বাউফল থানার পরিদর্শক আল মামুন বলেন ,‘ মামলাটি তদন্তাধীন । তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে । ’


    টিএইচএ/
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ