ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উজিরপুরে হুইল চেয়ার পেল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অয়ন মিত্র  মঠবাড়িয়ায় অস্ত্রের মুখে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ বঙ্গোপসাগরে ৫ দিন ধরে সাগরে ভাসছেন ১৮ জেলে বরিশালে মিছিল নিয়ে এসে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে হাতবোমা বিস্ফোরণ কালাবদর ও তেতুলিয়া নদীতে রাতে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বালু ব্যবসা, প্রশাসন নীরব পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে ৫০ টাকা বাড়তি বাসভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ভোলায় হাসপাতালে তীব্র সংকটে ওষুধ-সরঞ্জাম, শিশু ওয়ার্ডে পাঁচ গুণ রোগী
  • নলছিটি পৌরসভার পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘হুলিয়া’

    নলছিটি পৌরসভার পাঁচ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘হুলিয়া’
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার পাঁচ কর্মচারীকে অন্যত্র বদলির জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছেন পৌর মেয়র। এ কর্মচারীরা স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র আবদুল ওয়াহেদ খান। মন্ত্রণালয়ের সচিকের কাছে তিনি গত ২৪ অক্টোবর এ আবেদনপত্র পাঠান।

    কর্মচারীরা হলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী ও কর আদায়কারী গোলাম মোস্তফা, বিল ক্লার্ক (পানি শাখা) মিরাজ হাসান প্রিন্স, নিন্মমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. কাউয়ুম হোসেন, ইলেট্রিশিয়ান সিরাজুল ইসলাম লিজন ও ক্যাশিয়ার রেখা বেগম। এদের মধ্যে ইলেকট্রিশিয়ান লিজন ও ক্যাশিয়ার রেখা দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়।

    এদিকে পাঁচ কর্মচারীদের মধ্যে অন্য তিনজনকে কাউন্সিলররা পৌরসভায় আসতে নিষেধ করেছেন, তাই বাধ্য হয়ে তাঁরা গত ২০ অক্টোবর থেকে একমাস ৭ দিনের ছুটি নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেই থেকে ১১ দিন অফিস করছেন না এ তিন কর্মচারী। এতে পৌরসভা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে, সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নাগরিকরা।

    জানা গেছে, নলছিটি পৌরসভায় দীর্ঘ দিন ধরে চাকরি করে আসছেন গোলাম মোস্তফা, মিরাজ হাসান প্রিন্স, মো. কাউয়ুম হোসেন, সিরাজুল ইসলাম লিজন ও রেখা বেগম। এর মধ্যে ক্যাশিয়ার রেখা ও ইলেকট্রিশিয়ান লিজনের বিরুদ্ধে চার লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত ২৬ জুলাই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে পৌর মেয়র বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের ও তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেন। বর্তমানে তারা জামিনে মুক্ত আছেন। এর পর থেকেই শুরু হয় পৌরসভার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ‘হুলিয়া’।

     মোস্তফা, প্রিন্স ও কাউয়ুমকে পৌরসভায় আসতে নিষেধ করেন কাউন্সিলররা। ২০ অক্টোবর তাদের এক সপ্তাহের জন্য ছুটি নিতে বাধ্য করা হয়। পৌর মেয়র তাদের ছুটি প্রদান করেন। এই এক সপ্তাহ পার হতেই আবারো তাদের এক মাসের ছুটি নিতে বলা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক তাদের বিশ্রামে থাকতে বলেছেন দেখিয়ে, তাঁরা তিনজনই গত ২৭ অক্টোবর আবারো এক মাসের ছুটি নেন। এমনকি ছুটিতে থাকা অবস্থায় তাদের বাড়িতে গিয়ে কাউন্সিলররা দাপ্তরিক চাবি নিয়ে আসেন।

    এর পর থেকেই পৌরসভার দাপ্তরিক কাজ থমকে যায়। কর নির্ধারণ, কর আদায়, নকশা ও প্লান কার্যক্রম, ওয়ারিশ, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, পানি শাখার বিল প্রদান ও কমিম্পিউটারের যাবতীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরসভার বাসিন্দারা। নাগরিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। পৌরসভার এ কর্মচারীরা জানান, পৌর মেয়র তাদের তিন কর্মচারীকে ছুটি প্রদান করেছেন।

     ছুটির মেয়াদ শেষ না হতেই তিনি গত ২৪ অক্টোর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুজনসহ পাঁচজনকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করেছেন মন্ত্রণালয়ে। পাশাপাশি পৌরসভার ২৫৮/২১ নম্বর স্মারকে তাদের পদশূন্য ঘোষণা করে, নতুন নিয়োগের জন্যও আবেদন করেন। এ খবর শুনে হতাশ হয়ে পড়েন পৌরসভার পাঁচ কর্মচারী। বর্তমানে তাঁরা দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন।

    ভারপ্রাপ্ত প্রধান সহকারী ও কর আদায়কারী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমি ২৪ বছর ধরে পৌরসভায় চাকরি করি, আমাদের নামে কোন অভিযোগ নেই। কোন কারন দর্শানো নোটিশ নেই, তার পরেও আমাদের তিনজনকে এক মাস সাত দিনের ছুটি দিয়েছে মেয়র। আবার তিনিই আমাদের পদশূন্য করেছেন। কয়েকজন কাউন্সিলরের পরামর্শে আমাদের ওপর অন্যায় করা হচ্ছে।

    বিল ক্লার্ক (পানি শাখা) মিরাজ হাসান প্রিন্স বলেন, আমাদের ছুটি দিয়েছে, আবার বাড়িতে গিয়ে চাবিও নিয়ে এসেছেন কাউন্সিলররা। আমাদের ওপর নানা ধরনের হুলিয়া চলছে। এ অবস্থায় আমাদের অন্যত্র বদলি করা হলেও আপত্তি নেই।

    পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন মাহমুদ বলেন, যে সকল কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা নিজেরাই চাবি বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেছেন। আমরা শূন্যপদে নতুন করে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।

    এ ব্যাপারে নলছিটি পৌরসভার মেয়র আবদুল ওয়াহেদ খান বলেন, আমরা শূন্যপদে নতুন নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এখন পাঁচ কর্মচারী না থাকায় পৌরসভার কার্যক্রমে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। শূন্যপদে নিয়োগ হলে সমস্যা থাকবে না।

     


    এমবি
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ