ঢাকা বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

Motobad news
শিরোনাম
  • হিজলায়  সাবেক চেয়ারম্যান টিপু সিকদারের ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক  বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে  ট্রলারডুবি, ৫ জেলে নিখোঁজ বরিশালে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৩ জন গ্রেপ্তার  বরিশাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ বরিশালে দিনব্যাপী দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী ও ডেটা সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ রোববার সাংবাদিক এম মিরাজের নামাজে জানাজা মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, দ্রুত উদ্যোগ নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ভোলায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার নিষিদ্ধ পলিথিনসহ আটক ১ ৩ ফুটবলারসহ আর্জেন্টিনাকে কঠোর শাস্তি দিলো ফিফা
  • সাবনূর মেডিক্যালে পড়বে, দায়িত্ব নিলো বসুন্ধরা

    সাবনূর মেডিক্যালে পড়বে, দায়িত্ব নিলো বসুন্ধরা
     সাবনূরের (ডান থেকে দ্বিতীয়) মেডিক্যালে পড়ার স্বপ্নটা পূরণ হওয়ার সুসংবাদ পৌঁছে দিলেন শুভসংঘের বন্ধুরা, পাশে সাবনূরের মা (ডানে)
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    মেডিক্যালে সুযোগ পাওয়া পিরোজপুরের দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থী সাবনূরের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলো দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। স্বরূপকাঠি উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ কামারকাঠি গ্রামের দিনমজুর বাবুল মোল্লার মেয়ে তিনি। এ বছর মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায় ৭৩ দশমিক ৫ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় ৩৮৮৯তম স্থান অর্জন করে জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন সাবনূর। মেয়ের এই সফলতায় বাবা-মা যারপরনাই খুশি। কিন্তু দারিদ্রতার কারণে মেয়ে সেখানে পড়তে পারবে কিনা তা নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় ছিল পরিবার।  

    সাবনূরের মেডিক্যালে সুযোগ পাওয়া নিয়ে তার বাড়িতে গেলে জানা যায়, তার বাবা বাবুল মোল্লা এক সময় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। নয় বছর পূর্বে তিনি অ্যাজমায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখন দিনমজুরের কাজ করেই তার জীবন কাটছে। বাবুল মোল্লার চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ মেটাতে বাবুলের স্ত্রী সাবিনা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। সাবনূরকে অনেক সময় অনাহারে অর্ধাহারে থেকেই লেখাপড়া করতে হয়েছে। তার বাসা থেকে কলেজের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিদিন হেঁটেই কলেজে যাওয়া-আসা ছিল তার। মেডিক্যালে সুযোগের পর সাবনূরসহ তার পরিবারের মনে শঙ্কা, সেখানে পড়তে পারবে তো! নাকি তার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।  

     

    পরে এ নিয়ে গনমাধ্যমে 'সাবনূরের চোখে আনন্দ মনে শঙ্কা' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে সাবনূরের পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা গ্রুপ। তারা সাবনূরের পড়ালেখার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করে। এদিকে, এ খবর পেয়ে সাবনূর ও তার পরিবারের দুশ্চিন্তা কেটেছে, দারুণ খুশি তারা।  

    আবেগে আপ্লুত সাবনূরের বাবা-মা জানান, মেয়ের লেখাপড়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে গিয়েছিলাম। দারিদ্রতার কারণে মেয়েকে ডাক্তার বানাতে পারবো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। বসুন্ধরা গ্রুপের কল্যাণে আজ আমাদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে। তারা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  

    সাবনূর বলেন, দারিদ্রতার কষাঘাতের মধ্য দিয়ে অনেক কষ্ট করে আমি পড়ালেখা করেছি। আমি স্বপ্ন দেখতাম ডাক্তার হবো, ডাক্তারি পোশাকে আমি রোগীদের সেবা করবো। কিন্তু দারিদ্রতার কারণে আমার সেই স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছিল। বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় এখন আমি মেডিক্যালে পড়ালেখা করতে পারবো। বসুন্ধরা গ্রুপের এ অবদান আমি চিরদিন মনে রাখবো। ভাবিষ্যতে আমি একজন মানবিক ডাক্তার হয়ে দেশ ও দেশের জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চাই।  


    এইচকেআর
    গুগল নিউজে (Google News) দৈনিক মতবাদে’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ